নারায়ণগঞ্জের নতুন CJM ভবন: পূর্ণাঙ্গ বিচারিক কার্যক্রম চালুর এখনই উপযুক্ত সময়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬, ১২:১২ পিএম
নারায়ণগঞ্জে নির্মিত নতুন Chief Judicial Magistrate (CJM) Court ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিচার বিভাগীয় অবকাঠামো হিসেবে নির্মিত এই ভবনের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।
অতীতে একটি প্রচলিত যুক্তি ছিল—ফৌজদারি আদালত নতুন CJM ভবনে স্থানান্তরিত হলে আইনজীবীদের সিভিল ও ফৌজদারি আদালতের মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে হবে, যা পেশাগত অসুবিধার সৃষ্টি করবে। তবে বর্তমান বাস্তবতা সেই যুক্তিকে অনেকাংশে দুর্বল করে দিয়েছে।
বর্তমানে অধিকাংশ আইনজীবী নির্দিষ্ট ক্ষেত্রেই কাজ করেন। যারা সিভিল মামলা পরিচালনা করেন, তারা সাধারণত নিয়মিত ফৌজদারি আদালতে উপস্থিত হন না। একইভাবে, যারা ফৌজদারি মামলা পরিচালনা করেন, তাদের কার্যক্রমও প্রধানত ফৌজদারি আদালতকেন্দ্রিক। কোনো বিশেষ প্রয়োজনে এক আদালত থেকে অন্য আদালতে উপস্থিতির দরকার হলে সিনিয়র আইনজীবীরা দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের জুনিয়র আইনজীবীদের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ফলে সিভিল ও ফৌজদারি আদালত পৃথক ভবনে পরিচালিত হলে তা আইনজীবীদের জন্য বড় ধরনের বাস্তব সমস্যা সৃষ্টি করবে—এমন ধারণার ভিত্তি এখন আর ততটা শক্তিশালী নয়।
অন্যদিকে, নতুন CJM ভবনে ডেজিগনেটেড ফৌজদারি আদালতসমূহ, বিচারকদের চেম্বার, নেজারত, রেকর্ডরুম, মালখানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি। সে ক্ষেত্রে বিচার বিভাগের জন্য নির্মিত একটি বিশেষায়িত ভবনকে তার মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করাই হবে সর্বোত্তম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।
বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত বিচারিক অবকাঠামোর যথাযথ ব্যবহার অপরিহার্য। তাই নারায়ণগঞ্জের নতুন CJM ভবনকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিচারিক কাজে চালুর সম্ভাবনা আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা যেতে পারে।
তবে অতীতে ভবনটির ব্যবহার বা ব্যবহার না হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাব ছিল কি না—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর নথি, সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।



