জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভা: ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরাতে নির্দেশ
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। জেলার প্রতিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি), জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে দুর্যোগ মোকাবিলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের মাঠপর্যায়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার জেলায় ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে এবং আগামী তিন দিন আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা আয়োজন করা হয়েছে। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। পাশাপাশি অনেক উপজেলায় উপজেলা ও ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ফায়ার সার্ভিসের নম্বর সম্পর্কে অবগত থাকলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও খুব শিগগির একটি কন্ট্রোল রুমের জরুরি নম্বর প্রকাশ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় স্বেচ্ছাসেবকরা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে শুকনো খাবার, পুষ্টিকর খাদ্য এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হচ্ছে। জেলার যেকোনো প্রান্তে জরুরি পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেলে এই কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে দ্রুত সমন্বয় করে সর্বনিম্ন সময়ে প্রয়োজনীয় সাড়া দেওয়া হবে।
এ পর্যন্ত জেলার কোথাও পানিবন্দি হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার সদর পৌরসভায় একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
তিনি বলেন, আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ার পর তিন দিন আগ থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য নিয়মিত প্রচার ও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
জরুরি সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিজেদের মতামত ও করণীয় তুলে ধরেন।



