কর্মীদের মিলনমেলায় জমজমাট ফুটবল, সেরার মুকুট মার্কো ফেব্রিকসের
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬, ১০:২৪ পিএম
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় যখন মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ব, তখন সেই উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে মার্কো গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে এক বর্ণাঢ্য প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। ‘Unite the Game, Feel the Glory’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, দর্শকদের উচ্ছ্বাস এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিশ্বকাপের আবহকে যেন স্থানীয় পর্যায়ে নতুন মাত্রা এনে দেয়।
শুক্রবার (০৩ জুলাই) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার খিলপাড়া এলাকার তূরা স্পোর্টস জোনে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে মার্কো গ্রুপের চারটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান—ইফাজ ব্লিচিং অ্যান্ড ডাইং, মানুরি টেক্সটাইল মিলস, মার্কো ফেব্রিকস এবং মেরাজ টেক্স—অংশ নেয়। প্রতিটি দলের খেলোয়াড়রা ছিল নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী। কর্মব্যস্ততার বাইরে খেলাধুলার মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই প্রতিটি ম্যাচ ছিল জমজমাট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ, দৃষ্টিনন্দন পাসিং, চমৎকার গোল এবং খেলোয়াড়দের অসাধারণ নৈপুণ্যে মাঠজুড়ে তৈরি হয় বিশ্বকাপের মতোই রোমাঞ্চকর পরিবেশ। দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও প্রিয় দলের প্রতি সমর্থন পুরো আয়োজনকে উৎসবের রূপ দেয়।
সেমিফাইনাল পর্ব পেরিয়ে ফাইনালে মুখোমুখি হয় শক্তিশালী দুই দল মার্কো ফেব্রিকস ও মানুরি টেক্সটাইল মিলস। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় মার্কো ফেব্রিকস। ধারাবাহিক আক্রমণ, নিখুঁত সমন্বয় এবং দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নেয় তারা। শেষ পর্যন্ত ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে মানুরি টেক্সটাইল মিলসকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়নের শিরোপা নিজেদের করে নেয় মার্কো ফেব্রিকস।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানুরি টেক্সটাইল মিলসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এ কে এম মাহফুজুর রহমান বাপ্পী। তিনি বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি, মেডেল ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন মার্কো গ্রুপের সিইও ও ডিরেক্টর মঈদুর রহমান ইফাজ, ডিরেক্টর মুগনিউর রহমান মেরাজ, ম্যানেজার সায়েম ফারহান, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ার এম আর আকরাম এবং প্রকৌশলী হাসিবুল।
আয়োজকরা জানান, কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, দলগত মনোভাব, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং সুস্থ বিনোদনের সংস্কৃতি গড়ে তোলাই ছিল এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ফুটবলের বৈশ্বিক উন্মাদনার সঙ্গে নিজেদের কর্মপরিবারকে সম্পৃক্ত করে আনন্দ ভাগাভাগি করাও ছিল অন্যতম লক্ষ্য।
তারা আরও জানান, ভবিষ্যতেও মার্কো গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজন কর্মীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও একাত্মবোধ আরও শক্তিশালী করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
রানার্সআপ দলের সায়েম ফারহান বলেন, ফাইনালে হেরে গেলেও পুরো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল দারুণ। প্রতিটি ম্যাচই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উপভোগ্য। এমন আয়োজন কর্মব্যস্ত জীবনে মানসিক প্রশান্তি এনে দেয় এবং সহকর্মীদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করে। আগামী আসরে আরও ভালো প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামব বলে আশা করছি।
চ্যাম্পিয়ন দলের মমিন বলেন, বিশ্বকাপের আবহে এমন একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত। মাঠে সবাই জয়ের জন্য লড়াই করলেও খেলার বাইরে ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ। চ্যাম্পিয়ন হতে পেরে ভালো লাগছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে কর্মীদের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে।"
এ কে এম মাহফুজুর রহমান বাপ্পী বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে দক্ষ জনবল যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাও সমান প্রয়োজন। খেলাধুলা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত সমন্বয় ও কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই কর্মপরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত ও ইতিবাচক রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ক্রীড়া আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে মাঠ ছিল প্রাণচঞ্চল। বিশ্বকাপের আবহে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণকারী সবার জন্যই হয়ে ওঠে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের এক অনন্য মিলনমেলা।



