বগুড়ার শেরপুরে ৬০০ ফুট গভীর খনন নিয়ে চাঞ্চল্য
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের কচুয়াপাড়া গ্রামে একটি পৈতৃক জমিতে প্রায় ৬০০ ফুট গভীর মাটি খননকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। খননের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে শুরুতে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় গ্রামবাসীর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি সরকারি মাটি পরীক্ষা কার্যক্রমের অংশ।
বুধবার (১ জুলাই) রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মো. আনিছুর রহমানের বসতবাড়ির পাশের পৈতৃক জমিতে যন্ত্রের মাধ্যমে গভীর খননকাজ চলছে। স্থানীয়দের অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করে খননকাজ পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘জমির মালিকদের পক্ষ থেকে এ ধরনের খননের বিষয়ে আমরা কিছু জানতাম না। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। ইউপি সদস্য অনুমতি দিয়েছেন কি না, সেটিও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।’
এলাকার একটি মসজিদের ইমাম বলেন, ‘কাজ শুরুর আগে গ্রামবাসীকে জানানো হলে মানুষের মধ্যে এত কৌতূহল বা গুজবের সৃষ্টি হতো না। সরকারি কাজ হলেও স্থানীয়দের অবহিত করা প্রয়োজন ছিল।’
খননকাজে নিয়োজিত শ্রমিক হেলাল উদ্দিন জানান, তারা খুলনা থেকে এসেছেন এবং প্রকৌশলী নাহিদের তত্ত্বাবধানে কাজ করছেন।
কচুয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, সরকারি উদ্যোগে এখানে মাটি পরীক্ষা করা হবে এবং এতে স্থানীয়ভাবে কোনো ব্যয় হবে না। সেই বিবেচনায় আমি অনুমতি দিয়েছি। তবে আগে থেকে বিস্তারিত জানানো না হওয়ায় মানুষের মধ্যে নানা ধরনের কানাঘুষা শুরু হয়েছে।’
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রকৌশলী নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে। এটি একটি সরকারি প্রকল্পের অংশ। নির্ধারিত স্থানে গভীর মাটি পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।’
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, ‘বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি চিঠি পেয়েছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাটি পরীক্ষার কাজ পরিচালিত হচ্ছে।’



