অবশেষে সৈকতের বালিয়াড়ির ঝুঁপড়ি সরিয়ে নিতে চূড়ান্ত নিদের্শনা
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
অবশেষে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে বসানেো সকল ঝুঁপড়ি দোকান নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে নিদের্শনা প্রদান করেছে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: মাহমুদুর রহমান সায়েম এ আদেশে এমন নিদের্শনা প্রদান করা হয়েছে। ১ জুন তারিখে নিদের্শনা পত্রটি স্বাক্ষর করা হলেও ১ জুলাই বুধবার সকালে এটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রাধিন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।
আদেশে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সকল সাময়িক কার্যধারী ব্যবসায়ীদের অবগতির জন্য জানানো হয়, ‘মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের রিট পিটিশন নম্বর-৬২৬/২০১১ এর আদেশ ও কার্ডের শর্ত লঙ্ঘন করে ব্যবসা পরিচালনা করায় পরিবেশ অধিদপ্তর, ঢাকা ২৩.০৯.২০২৫ তারিখের ১৯৪ নং পত্র এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখের ৩৪৪ নং পত্র অনুযায়ী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনাকারী সকল সাময়িক কার্ড বাতিল করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তৎপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কোনো স্থানে নতুন করে আর কোনো সাময়িক কার্ড ইস্যু করা হবে না এবং ইস্যুকৃত সাময়িক কার্ডের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ শেষ হওয়ার পর, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য পুনঃনবায়ন করা হবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে; যা বিগত ০১ জুন ২০২৬ তারিখ ২০৭ নং পত্রমূলে সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করা হয়েছে।
এমতাবস্থায়, সমুদ্র সৈকতের সকল সাময়িক কার্যধারী ব্যবসায়ীকে অতি সত্বর নিজ দায়িত্বে দোকান ও অন্যান্য সকল স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে। অন্যথায়, যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কক্সবাজার জেলা প্রশাসন নিয়ন্ত্রিত বীচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটির বছরে কয়েক কোটি টাকা অনুমতি বাণিজ্য রয়েছে। সৈকতের নানা ধরণের ঝুঁপড়ি দোকান, কিটকট (বীচ ছাতা), ঘোড়া, বীচ বাইক, ওয়াটার বাইক সহ নানা ব্যবসা পরিচালনার বিপরীতে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার অনুমতি পত্র ইস্যু করা হয়। যা নিয়ে বছরের পর বছর জুড়ে সৈকতে আইন না মেনে অব্যাহত রয়েছে দখল।
যদিও কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকতকে ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত বালিয়াড়িতে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ। বালিয়াড়িতে নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। ফলে সৈকতের এসব ব্যবসা নিয়ে বছরের পর বছর বির্তক আলোচনা চলছে।
এর মধ্যে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এক সপ্তাহের মধ্যে সৈকতের সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এক হাজার দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
কিন্তু ঈদের আগে ও পরে সৈকতের পুরো বালিয়াড়ি আবারও দখল হয়ে যায়। রূপ নেয় বস্তিতে। এব্যাপারে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষে ১ জুন সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে দোকান বসানোর জন্য ইস্যুকৃত কার্ডের নতুন করে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।



