সোনারগাঁয়ে রাস্তা দখলের অভিযোগ, ১০ পরিবার অবরুদ্ধ
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার দত্তপাড়া গ্রামে চলাচলের রাস্তার ওপর টিনশেড ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ১০টি পরিবারের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। স্থানীয়দের দাবি, সংকীর্ণ পথের কারণে মৃত ব্যক্তির লাশও স্বাভাবিকভাবে বের করা যায় না। অনেক সময় বাড়ির বেড়া খুলে লাশ বের করতে হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গতকাল রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সোনারগাঁ থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দত্তপাড়া গ্রামের আজগর হোসেন ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী রোকসানা আক্তার মিনু চলাচলের রাস্তার অংশে টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছেন। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় মানুষজনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়াও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার একটি অংশে স্থাপনা থাকায় পথটি অন্য অংশের তুলনায় অনেক সরু হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, আশপাশের বাসিন্দারা বাড়ি নির্মাণের সময় রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেও অভিযুক্ত পরিবার তা করেনি।
অভিযোগকারী গোলাম ফারুক পাটোয়ারী বলেন, তাঁদের পরিবার আগে ওই এলাকায় জমি কিনেছে। তাঁর দাবি, রাস্তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তাঁর মা-বাবার মরদেহ বাড়ি থেকে বের করতে বেড়া খুলতে হয়েছিল। তিনি বলেন, আমরা চাই প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিক।
স্থানীয় সালিশের সঙ্গে যুক্ত আফাজউদ্দিন বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দিয়ে হলেও স্থাপনাটি সরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অভিযুক্ত পক্ষ তাতে রাজি হয়নি।
একই এলাকার বাসিন্দা সবুজ বলেন, স্থাপনাটির কারণে শুধু একটি নয়, আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হওয়া প্রয়োজন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রোকসানা আক্তার মিনু। তিনি বলেন, আমি আমার নিজস্ব জমির ওপরই বাড়ি নির্মাণ করেছি। রাস্তার ওপর কোনো স্থাপনা করিনি। পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী ভবন নির্মাণে নির্ধারিত জায়গা ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



