কুড়িগ্রামের চিলমারীতে মাদক ব্যবসায় বাঁধা, যুবককে কুপিয়ে জখম
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের প্রতিবাদ করায় এক যুবকের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত যুবক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভুক্তভোগী পরিবার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে জানা , গত ১৭ জুন সকালে উপজেলার জোড়গাছ ঘাটে একটি হোটেলের পাশে কয়েকজনকে গাঁজা সেবন করতে দেখে বাধা দেন স্থানীয় যুবক আনোয়ারুল ইসলাম। এ সময় অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে মনে করা হলেও বিকেলে পূর্ব বিরোধের জের ধরে একদল ব্যক্তি আনোয়ারুলের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আনোয়ারুলকে বেধড়ক মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা আরও কয়েকজনও হামলার শিকার হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহত আনোয়ারুলের পরিবারের দাবি, চিকিৎসকদের প্রাথমিক পরীক্ষায় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের ফলে পাশাপাশি হাত ও পা ভেঙেছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিরাশাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসার একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করলে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হুমকি ও হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়। ফলে অনেকেই ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “মাদকের কারণে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে। যারা প্রতিবাদ করছে, তাদেরই হামলা ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নয়ন কুমার বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে যার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় মাদক সংক্রান্ত কোনো অপরাধ বরদাশত করা হবে না।”
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে এবং দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।



