মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ভেতরে অভিনব কৌশলে লুকিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচারের সময় নেত্রকোনায় দুই কুখ্যাত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭ হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৩১ লাখ ৪০ হাজার টাকার আলামত জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার চিরাম ইউনিয়নের চিরাম গ্রামের মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো. সোহেল মিয়া (৩৬) এবং একই গ্রামের খাইরুল ইসলামের ছেলে মো. সজীব (২৪)।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেল ৫টার দিকে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে একই দিন সকালে নেত্রকোনা সদর উপজেলার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে ইয়াবার একটি বড় চালান নেত্রকোনায় প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হকের নেতৃত্বে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সদর উপজেলার চল্লিশা ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় ‘মা মোটরসাইকেল সার্ভিসিং’ দোকানের পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালানো হয়। দুপুর ১২টার দিকে সন্দেহজনক একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করলে এর ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যায়।
তল্লাশির একপর্যায়ে আসামিদের কাছ থেকে দুটি কালো পলিথিন ব্যাগে সংরক্ষিত ৩৫টি জিপারযুক্ত নীল প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ২০০ পিস করে মোট ৭ হাজার পিস অ্যামফিটামিনজাত ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার মোট ওজন প্রায় ৭০০ গ্রাম এবং এর আনুমানিক অবৈধ বাজারমূল্য ২৮ লাখ টাকা।
এছাড়া আসামিদের কাছ থেকে একটি টেকনো, একটি ইনফিনিক্স স্মার্টফোন, একটি আইটেল বাটন ফোন এবং ইয়ামাহা ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত সকল আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নেত্রকোনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ডিএনসির পরিদর্শক মো. আল-আমিন মামলার বাদী হবেন বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ও প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদকমুক্ত জীবনই পারে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে। তাই আমাদের সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত— ‘মাদককে না বলি, সুন্দর জীবন গড়ি’।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



