ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সেতুবন্ধন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ফতুল্লা উপজেলা। মূল ঢাকায় জমির স্বল্পতা ও আকাশচুম্বী দামের কারণে উচ্চ-মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের কাছে ফতুল্লা থানাধীন সাইনবোর্ড সংলগ্ন কুতুবপুর ইউনিয়ন ও এর আশপাশের এলাকা আবাসন গড়ে তোলার জন্য একটি চাহিদাসম্পন্ন অঞ্চল। মানুষের এই চাহিদাকে পুঁজি করে এখানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আওয়ামী ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান কাঁচপুরীর নেতৃত্বে এবং মাখন সাহাসহ স্থানীয় কয়েকজন চিহ্নিত প্রতারকের সমন্বয়ে এই চক্রটি গড়ে উঠেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষের জায়গা জোরপূর্বক দখল এবং নানাভাবে হয়রানি করে শত শত পরিবারকে নিঃস্ব করেছে এই কাঁচপুরী চক্র। একসময়ের অতিসাধারণ জীবনযাপন করা হাবিবুর রহমান কাঁচপুরী মানুষের জমি দখল করে বর্তমানে বিলাসবহুল বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় বানিয়েছেন।
গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যায় হাবিবুর রহমান কাঁচপুরী ও মাখন গং। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হলেও কোনো এক রহস্যজনক কারণে বেশিরভাগ মামলা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। সরকার পরিবর্তনের পর এলাকাবাসী, বিশেষ করে কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুক্তভোগী লোকজন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।অভিযোগ উঠেছে, নিজেকে আড়াল করতে এবং পুনরায় ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার করতে কাঁচপুরী এখন নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনিরুল ইসলাম রবিকে সম্পূর্ণ বিনা ভাড়ায় নিজের একটি ফ্ল্যাটে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, কাঁচপুরী নিজে পর্দার আড়ালে থেকে সব ধরণের ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন এবং মনিরুল ইসলাম রবিকে সামনে এনে আবারো কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তে জমি দখলে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। মূলত বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিনা ভাড়ায় বাসায় থাকার স্বার্থে এবং রাতারাতি 'আঙুল ফুলে কলাগাছ' বনে যাওয়ার লোভে সাধারণ মানুষের জায়গা বেদখল, ভুয়া দলিল তৈরি সহ যাবতীয় অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে এই কাঁচপুরী-রবি-মাখন সিন্ডিকেট। এই প্রতারক চক্রের ধারাবাহিক অপরাধের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে কুতুবপুর ইউনিয়নের শান্তিধারা এলাকায় এক ভুক্তভোগীর বৈধভাবে ক্রয়কৃত সম্পত্তি বেদখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এই উদ্দেশ্যে জমির জাল ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি ইতিমধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও সর্বোচ্চ মহলে কাঁচপুরী-রবি-মাখন চক্রের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
এই 'আওয়ামী লেসপেন্সার' হাবিবুর রহমান কাঁচপুরীর পুনরায় সক্রিয় হওয়া এবং বিএনপি নেতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টায় কুতুবপুর ইউনিয়ন ও ফতুল্লার সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও শান্তিপ্রিয় জনগণ এই চক্রের হাত থেকে মুক্তি পেতে এবং অবৈধ দখলদারিত্ব বন্ধে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



