দরপত্র ছাড়াই বিদ্যালয়ের ভবন বিক্রি, তোপের মুখে পালালেন ক্রেতা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:১৪ পিএম
নরসিংদীতে নিলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ভেঙে মালামাল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহার বিরুদ্ধে। তবে এলাকাবাসীর তোপের মুখে বিক্রিত মালামাল নিয়ে যেতে পারেনি ক্রেতা। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার শীলমান্দী এলাকায় অবস্থিত ফারুক আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
এলাকাবাসী ও স্কুলের অভিভাবকরা জানিয়েছেন, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ফারুক-আজিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। দুটি টিনশেড ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলে। সরকার বিদ্যালয়টিতে দু’তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে দেয়। নতুন বভন নির্মাণের পর সম্প্রতি পুরাতন ভবন ছেড়ে নতুন ভবনে পাঠদান শুরু করে। এর পর থেকেই বিদ্যালয়টির পুরাতন দুটি ভবন বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করার চেষ্টা শুরু করে প্রধান শিক্ষিকা। এরই অংশ হিসেবে তিনি সম্প্রতি বিদ্যালয়টির পুরোনো একটি ভবন জনৈক পুরাতন মালামাল ক্রয়কারী ব্যবসায়ী গনি মিয়ার কাছে বিক্রি করে দেন। পরে ১৮ জুন সকালে উক্ত ব্যবসায়ী ভবন ভেঙে চালার টিন, লোহার গ্রিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন সামগ্রী ট্রাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী বাধা প্রদান করে। পরে এলাকাবাসীর তোপের মুখে মালামাল রেখে পালিয়ে যায় ক্রেতা গনি মিয়া।
মালামাল ক্রয়ের ব্যাপারে ব্যবসায়ী গনি মিয়া কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে বিক্রি করা মালামাল পিকআপভ্যানে তোলে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসীর তোপের মুখে মালামাল রেখে পালিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে, সে ভিডিওতে ব্যবসায়ীকে বলতে দেখা গেছে, এলাকাবাসী তার কাছে জানতে চেয়েছে ক্রয়কৃত মালামালের কোনো দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে কিনা, তখন তিনি বলেন, কোনো দরপত্রের মাধ্যমে মালামাল ক্রয় করিনি, প্রধান শিক্ষক আর ইউএনও অফিস জানে। এছাড়াও কত টাকা দিয়ে কিনেছেন এবং কার কাছ থেকে কিনেছেন? সেই উত্তরে ক্রেতা গনি মিয়া বলেন, আপনাদের যা কিছু জানার আছে প্রধান শিক্ষক ম্যাডামের কাছে জিজ্ঞেস করেন, তিনি অফিস রুমে আছে। আমি কিছু বলতে পারব না। পরে তাকে কোনো মালামাল নিয়ে যেতে পারবেন না বললে, তিনি রেগে গিয়ে বলেন, মালামাল নিতে না পারলে আপনি টাকা দেবেন এমনটা ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে।
স্থানীয় আফাজ উদ্দিন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কিংবা গ্রামের কারো সাথেই আলোচনা না করে ভবন বিক্রি করে দেয় প্রধান শিক্ষক। ওনার আসলে মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিক্রির টাকা আত্মসাৎ করা। এর আগেও আরেকটি ভবন বিক্রিসহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষিকা জয়শ্রী সাহার। তিনি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের মৌখিক নির্দেশনার ভিত্তিতে পরিত্যক্ত ভবনটি ভাঙা হয়েছে। তবে মালামাল বিক্রি করা হয়নি।
নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কবির হোসাইন বলেন, বিদ্যালয়ের ভবন ভাঙার জন্য কোনো মৌখিক বা লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আসমা জাহান সরকার বলেন, সরকারি সম্পদ বা পরিত্যক্ত ভবনের মালামাল বিক্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



