নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, নিহত ৩
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১০:০৫ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে লতিফ মোল্লা (৩২) নামে আরেকজনের মরদেহ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বেলা ১টার দিকে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম-সংলগ্ন নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে সংঘর্ষে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত লতিফ মোল্লা রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকার শহীদ মিয়ার ছেলে। মালয়েশিয়া প্রবাসী এই যুবক গত সপ্তাহে দেশে ফেরেন। তাঁর সংসারে ১০ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুটি মেয়ে আছে। গত মঙ্গলবার সংঘর্ষের পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সির পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশি অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে। ঘটনার দিন ওসমান মেম্বারের ছেলে অনিক (২০), পরদিন বুধবার শাহ আলমের ছেলে কাওসার আহমেদ (৩৭) এবং আজ লতিফ মোল্লার লাশ উদ্ধার হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিলক্ষা ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নাজিম উদ্দিন (মিষ্টার) ও আলাল মুন্সি (জবা মেম্বার) গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জের ধরে মঙ্গলবার ভোর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের লোকজন| সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজন যুবক ও কিশোরকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অবস্থান নিতে দেখা যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে অনিক মিয়া (২০), রাজু (২৮), সুমন (৩৫), কাশেম (২৫), মোবারক হোসেন (৩৩), মোস্তফা মিয়া (৬০)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অনিক, রাজু ও মোবারককে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনিকের মৃত্যু হয়। পরে বুধবার বেলা তিনটার দিকে সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদীঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় নিলক্ষা ইউনিয়নে সংঘর্ষে নিখোঁজ কাউসার আহমেদ এর মরদেহ ভেসে উঠে। পরে সন্ধ্যায় মাধবদী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে আজ দুপুরে নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তাঁরা নৌকায় করে মরদেহটি তীরে টেনে আনেন। খবর পেয়ে লতিফ মোল্লার লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে বেলা ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মজিবুর রহমান বলেন, নিলক্ষায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল (বুধবার) রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আসামী করে মামলা করেছেন। এখন পর্যন্ত কেউ আটক নেই। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।



