শেরপুরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টায় যুবক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে এক যুবককে আটক করে স্থানীয় জনতা। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেও পুলিশ তাকে আটক বা গ্রেফতার না করায় পরে থানায় নিয়ে যাওয়া ওই যুবক পুলিশের সামনেই চলে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
আটক ব্যক্তি উপজেলার বাগড়া কলোনী গ্রামের ইমান আলীর ছেলে আতিকুল ইসলাম (৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে শেরুয়া বটতলা এলাকার অটোরিকশাচালক বাবলু সরকার ধুনট মোড় এলাকা থেকে দুই যাত্রীকে নিয়ে বনমরিচা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে বনমরিচার একটি চাতালের পাশে পৌঁছালে যাত্রীবেশে থাকা দুই ব্যক্তি অটোরিকশাটি থামাতে বলেন।
অটোরিকশাচালক বাবলু সরকারের অভিযোগ, অটোরিকশা থামানোর পর ওই দুই ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে গাড়িটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। তাদের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ সময় চাতালে কর্মরত শ্রমিকরা বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে এক ছিনতাইকারী আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। অপর ছিনতাইকারী আতিকুল ইসলামকে শ্রমিকরা আটক করেন এবং তার কাছ থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেন বলে জানান তারা।
খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শেরপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হায়দার আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে আহত অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি আতিকুল ইসলামকে পুলিশি হেফাজতে নেননি।
এ বিষয়ে এসআই হায়দার আলী বলেন, “স্থানীয় লোকজন আতিকুলকে আটক করে মারধর করায় তিনি কিছুটা আহত ছিলেন। তাই তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়নি। বরং স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
অটোরিকশাচালক বাবলু সরকার জানান, পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী তারা আতিকুল ইসলামকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করিয়ে সকাল ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যান। পরে তাকে থানার ভেতরে এসআই জাহিদুল ইসলামের কক্ষে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ডিউটি অফিসারের কাছে যেতে বলা হলে তারা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। কিন্তু পুলিশ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেলা ১১টার দিকে অভিযুক্ত আতিকুল ইসলাম পুলিশের সামনেই হুমকি দিয়ে থানা থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় বক্তব্য জানতে এসআই জাহিদুল ইসলাম ও শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
তবে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদিন বলেন, “জনতার মারধরে আহত হওয়ার কারণে তাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়নি। এরপর সে কীভাবে চলে গেছে, সেটি দেখার দায়িত্ব পুলিশের নয়।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবির পরও কেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হয়নি—এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।



