ফেসবুকে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্মারকলিপি
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভিত্তিহীন ও সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য করে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় রোববার (১৪ জুন) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল মতিন। তিনি শেরপুর থানায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং কয়েক বছর আগে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি শেরপুর পৌর শহরের উলিপুর এলাকায় বসবাস করছেন।
স্মারকলিপি প্রদান করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ কুমার সরকার এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি জয় কিশোর মুন্সী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৩৪ মিনিটে শেরপুরের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শিরু তাঁর ফেসবুক আইডি “Sheikh Shiru” থেকে শেরপুর পৌরশহরের ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন।
ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে “Md Motin” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, “শেরপুরের হিন্দুরা মিছিল করেছিল ফ্লাইওভার চায় না, এখন বোঝেন কত কষ্ট হচ্ছে শেরপুরবাসীর, দ্রুত ফ্লাইওভার দরকার।” অভিযোগকারীদের দাবি, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে উদ্দেশ্য করে বিদ্বেষ ছড়ানোর অপচেষ্টা।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, শেরপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন সাবেক সরকারি কর্মচারীর ফেসবুক আইডি থেকে এ ধরনের মন্তব্য স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে এবং এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল মতিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যটি ভুল হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি গতকাল দুপুরের পরই ওই মন্তব্য মুছে ফেলেছেন।
শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “এ ধরনের মন্তব্য অপরাধমূলক কাজ। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে এবং শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানানো হয়েছে। এছাড়া সংগঠন দুটির দেওয়া স্মারকলিপিটি জেলা প্রশাসকের কাছেও পাঠানো হবে।”



