গাজীপুরে চাঁদা দাবির অভিযোগে যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
জয়দেবপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ পিএম
গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় চাঁদা দাবির অভিযোগে সাব্বির আহমেদ নামে যুবদলের এক নেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। পরে এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আটক সাব্বির আহমেদ (৩০) রুদ্রপুর এলাকার আরফান আলীর ছেলে। তিনি ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানা গেছে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টাইলস ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকনের কেনা জমিতে গত রোববার বিকেলে বালু ভরাটের কাজ চলছিল। এ সময় সাব্বির আহমেদ ও তার কয়েকজন সহযোগী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুদ্দিন খন্দকারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং টাকা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের উন্নয়নকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়।
পরদিন সোমবার সকালে আবারও বালু ভরাটের কাজ শুরু হলে সাব্বির ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নুরুদ্দিন খন্দকারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, হামলার সময় সাব্বির তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে এলাকাবাসী সাব্বিরকে আটক করে রাখলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান।
নুরুদ্দিন খন্দকার জানান, তিনি প্রায় ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি সেখানে উন্নয়নমূলক কাজের অংশ হিসেবে বালু ভরাট শুরু করেন।
এ ঘটনায় তিনি জয়দেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাব্বির আহমেদ বলেন, বালু ভরাটের কাজ তাদের জমির ওপর দিয়ে করা হচ্ছিল। সে কারণেই তিনি বাধা দিয়েছেন। চাঁদা দাবির অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর বলেন, এ ঘটনায় নুরুদ্দিন খন্দকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। পরে সাব্বির আহমেদকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।



