টিলার লালমাটিতে লিচুর বাম্পার ফলন, বিজয়নগর এখন পর্যটন এলাকা
বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সীমান্ত ঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় ও উঁচু-নিচু ছোট ছোট পাহাড়ি টিলার লালমাটিতে এবার লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে করে উপজেলার বাগান মালিকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সুস্বাদু হওয়ায় এই উপজেলার লিচুর সুনাম রয়েছে দেশ ও দেশের বাইরে। আশপাশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা লিচু বাগানে বেড়াতে আসায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে বিজয়নগর উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়। কম জায়গা ও শ্রম কম লাগায় পরিত্যক্ত উঁচু নিচু ছোট ছোট পাহাড়ি টিলার লালমাটি ও ফসলি জমি লিচুর বাগানে রূপান্তর করেছেন এখানকার চাষিরা। ফলন হওয়ার পর থেকে দুই দফায় লিচু বিক্রি হয়। এর মধ্যে গাছে ফুল আসার পর পর প্রথম দফায় কৃষকদের কাছ থেকে গাছ চুক্তি ফলন কিনেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। দ্বিতীয় দফায় লিচু পাকার পরে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করেন। তবে উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর হাট আউলিয়া বাজারে লিচুর মৌসুমে এক মাস ধরে দৈনিক কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়।
বিজয়নগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছতরপুর, বক্তারমুড়া, বিষ্ণুপুর, কাঞ্চনপুর, কাশিমপুর, সিঙ্গারবিল, আদমপুর, কালাছড়া, মেরাশানী, সেজামুড়া, কামালমুড়া, হরষপুর, মুকুন্দপুর, নোয়াগাঁও, অলিপুর, কাশিনগর, ছতুরপুর, বক্তারমুড়া, রূপা, শান্তামুড়া, কামালপুর, কচুয়ামুড়া, গোয়ালনগর, ভিটিদাউপুর, পত্তন- এসব এলাকায় ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়েছে।
এসব গ্রামে এখন পা ফেলানোর ফুরসত নেই। আশপাশের কয়েক জেলার নারী পুরুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ ভ্রমণপিপাসুদের পদচারণায় পর্যটন নগরীতে পরিণত হয়েছে। এই ভ্রমণপিপাসু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত কাজের লোক রেখেও হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে খামারিরা জানান।
বিজয়নগর উপজেলায় কৃষি অফিসের তথ্য মতে ছোট বড় ১ হাজার ২৫০টি লিচু বাগানের পরেও প্রায় প্রত্যেকের বাড়িতেই দুই একটি করে লিচুর গাছ রয়েছে। যাদের বাড়িতেই একটু জায়গা আছে, তারা প্রত্যেক বাড়িতে লিচুর গাছ লাগান। এই উপজেলায় পাটনাই, বম্বে, চায়না থ্রি, চায়না-২ ও এলাচি জাতের লিচুর চাষ হয়।
উপজেলার সবচেয়ে বড় লিচুর বাজার হিসেবে পরিচিত আউলিয়া বাজার। পাশাপাশি সিংগারবিল, হরষপুর, চম্পকনগর বাজারে বিক্রি হয় অধিকাংশ লিচু। এসব বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নরসিংদী, ভৈরব, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, ফেনী ও রাজধানী ঢাকার ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে লিচু কিনে নিয়ে যায়।
কালাছড়া গ্রামের লিচু বাগানের মালিক মফস তাবরিজ সরকার বলেন, আমার বাগানে ১২০টির উপরে লিচু গাছ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। আমার মোট বাগানের এর মধ্যে অর্ধেক গাছে এবার ফলন হয়েছে। বাকি গাছগুলো এখনো ছোট।
আরেক লিচু বাগানের মালিক রফিক মিয়া বলেন, আমার ৪টি বাগানে ১৭০-১৮০টি গাছ আছে। এ বছর আশা করছি ১২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হবে।
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে লিচু বাগানে আশা দর্শনার্থী খোকন মিয়া জানান, বিজয়নগর উপজেলার লিচু বাগানের খবর শুনে কয়েকজন বন্ধুবান্ধব এসে অনেক ভালো লাগছে। যা ভিডিওতে দেখেছি বা মানুষের মুখে শুনেছি তার চেয়েছে অনেক ভালো মনে হয়েছে।
বিজয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, উপজেলায় এ বছর ৬৪০ হেক্টর জায়গায় লিচুর আবাদ হয়েছে। ছোট বড় লিচু বাগান আছে ১ হাজার ২৫০টির মতো। এ বছর ১ হাজার ৭৮০ মেট্রিকটন লিচুর ফলন হয়েছে; যা থেকে প্রায় ২৪-২৫ কোটি টাকার লিচু বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।



