কুড়িগ্রাম হাসপাতালে স্বাস্থ্য কর্মচারীর ‘অদৃশ্য শক্তির’ দাপট!
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে বদলি হওয়া কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী মো. ইউনুস আলী মাত্র চার মাসের ব্যবধানে আবারও একই পদে ফিরে আসায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বদলি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় দীর্ঘদিন ধরে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালকেন্দ্রিক নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন ইউনুস আলী। এ নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে সংবাদ প্রকাশের পর স্বাস্থ্য বিভাগ তদন্তে নামে।
দুই দফা তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল থেকে সরিয়ে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করেন। সংশ্লিষ্ট স্মারক নম্বর পরিঃ(স্বাস্থ্য/রংবি/প্রশাঃ২০২৬/১৩৭/১১।
তবে অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি অসাধু চক্রকে প্রভাবিত করেই গত ১৮ মে পুনরায় কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে একই পদে যোগদান করেন ইউনুস আলী। এ সংক্রান্ত স্মারক নম্বর স্বাঃঅধিঃ/প্রশা-৩/প্রধান সহকারী-৪০/২৬/১৮৬৮/১(১৫)।
স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনা প্রমাণ করে স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে এখনো দুর্নীতিবাজদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। বদলির পরও ইউনুস আলীর প্রভাব কমেনি, বরং তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী জানিয়েছেন, দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই ইউনুস আলীকে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তিনি আবারও সদর হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। যোগদানের পর বিভিন্ন স্টাফকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন তারা।
এক কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, ফিরে এসে ইউনুস আলী বিভিন্ন কর্মচারীকে হুমকিমূলক কথাবার্তা বলছেন। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সামিউল হক নান্টু বলেছেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, অভিযোগের পর সাময়িক বদলি এবং পরে পুনর্বহালের সংস্কৃতি দুর্নীতিকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগে জর্জরিত একজন কর্মচারীর এত দ্রুত একই কর্মস্থলে পুনর্বহাল হওয়া প্রশাসনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি দুর্নীতিবাজ চক্রের প্রভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনায় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ রোগীদের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মো. ইউনুস আলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নুর নেওয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি ইউনুস আলীর যোগদানপত্র গ্রহণ করেছেন। তার ভাষ্য, কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মহল ভালো জানে।



