চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় একই কাজ দেখিয়ে ফের টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় একটি নির্মাণকাজকে ভিন্ন অর্থবছর ও পৃথক প্রকল্প দেখিয়ে পুনরায় সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পৌরসভার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি চক্রের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাঁচরা বেপারি বাড়ি সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিবির অর্থায়নে একটি প্যালাসাইডিং ওয়াল নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসআই ট্রেডার্সের মাধ্যমে শ্রীপুর এলাকার ঠিকাদার নোমান খাঁ কাজটি সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, একই দেয়ালকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও ‘গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি’র আওতায় নতুন প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়। পরে প্রকল্পের নামে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের রাখার নিয়ম থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি। বরং চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী নিজেকে সভাপতি করে পৌরসভার কয়েকজন কর্মচারীকে সদস্য ও সাধারণ সম্পাদক দেখিয়ে কমিটি গঠন করেন।
এ বিষয়ে ঠিকাদার নোমান খাঁ বলেন, “আমি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাজটি সম্পন্ন করেছি এবং বিলও উত্তোলন করেছি। এখনো অফিসে আমার জামানতের টাকা জমা আছে। একই কাজ আবার কিভাবে দেখানো হলো, তা আমার জানা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিম ও ইউনুস অভিযোগ করে বলেন, ‘গত বছরই এই ওয়াল নির্মাণ হয়েছে। এখন আবার একই কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনের খবর শুনে আমরা বিস্মিত। পৌরসভার সাধারণ নাগরিকরা নানা সেবার জন্য ঘুরে হয়রানির শিকার হলেও একটি প্রভাবশালী চক্র নানা অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।’
প্রকল্পের সদস্য হিসেবে নাম থাকা পৌরসভার পাম্পচালক লোকমান জানান, তিনি এ প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানেন না। তার ভাষায়, ‘কে আমাকে সদস্য বানিয়েছে আমি জানি না। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ প্রকল্প করে টাকা তুলে থাকলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করবো।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কাজ পরিদর্শনের পর বিল দেওয়া হয়েছে।’ তবে পৌরসভার বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে প্রকল্প কমিটি গঠনের বৈধতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একই কাজ একাধিকবার দেখিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।



