বগুড়ায় ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে একযোগে ৫৪ জনের গণপদত্যাগ
বগুড়া অফিস
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্টেশন রোডে পুনরায় অবৈধভাবে দেশীয় ফল নামানো ও বিক্রির প্রতিবাদে একযোগে পদত্যাগ করেছেন ৫৪ জন আড়তদার। রোববার (৩ মে) দুপুরে শহরের তিনমাথা এলাকায় রেহেনা ফলমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা ফল ব্যবসায়ী সমিতি থেকে এই গণপদত্যাগের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আমদানি-রপ্তানিকারক ও দেশী ফল আড়ত মালিক সমবায় লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম আরফান। পদত্যাগকারী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সমিতির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম আরফান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন আহমেদ, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আজমল হোসেন, সাবেক প্রচার সম্পাদক আইনুল ইসলাম ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল বারীসহ ৫৪ জন আড়তদার।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, স্টেশন রোডের তীব্র যানজট ও উচ্ছিষ্ট ময়লা-আবর্জনা থেকে শহরকে মুক্ত রাখতে গত বছরের মে মাসে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাইকারি ফলের বাজার তিনমাথা সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহরের যানজট নিরসনে স্টেশন রোডের পাইকারি বাজার সরিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশ সুপার, পৌর মেয়র ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন সময়ে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের দোসরদের বাধার কারণে তা সফল হয়নি। তবে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যবসায়ীরা স্বেচ্ছায় তিনমাথা এলাকার রেহেনা ফলমন্ডিতে ব্যবসা স্থানান্তর করেন। বর্তমানে সেখানে সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা চললেও কতিপয় ব্যবসায়ী পুনরায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশ তোয়াক্কা না করে স্টেশন রোডে অবৈধভাবে ফল নামিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আমরা শহরের যানজট চাই না। বাজার স্থানান্তরের ফলে শহরের যানজট অন্তত ৩০ শতাংশ কমেছে। কিন্তু একটি পক্ষ প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় স্টেশন রোড দখল করছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অবৈধভাবে দখল হওয়া স্টেশন রোডে ফলের কারবার বন্ধে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



