Logo
Logo
×

সারাদেশ

রূপগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিলেন প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী

Icon

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

রূপগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিলেন প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মেলনের মাধ্যমে এনসিপিতে যোগ দিলেন গণঅধিকার পরিষদ, বিএনপিসহ অন্যান্য সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী। 

শনিবার (০২ মে) দুপুরে তারাব পৌরসভার গ্লোরিয়াস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির সমন্বয়ে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. ইউসুফ হোসাইন এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি আহ্বায়ক যুবায়ের সরদার।

যুবায়ের সরদার বলেন, বিগত ৫৪ বছরে ক্ষমতায় আসার জন্য প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল, এমনকি জামায়াতকেও দেখেছি আমরা, তারা ভারতের আধিপত্য এবং আমেরিকার আধিপত্য স্বীকার করেছে। কোথাও কোথাও দেখেছি, ভারতকে আমরা বন্ধু হিসেবে দেখতে চাই। আর অনেকে তো ভারতের সাথে তাল মিলিয়ে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং একটা ইলেকশন করেছে। আমি বলব এটি একটি ওয়ান-ইলেভেনের সরকারের মতো সরকার। হয়তোবা এটা আপনি এখন দেখতে পাচ্ছেন না। 

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় এসেছিল, প্রথম কি আমরা এরকম স্বৈরাচার দেখতে পেয়েছিলাম? স্বৈরাচার কবে রূপ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ এর পর থেকে। যখন আমরা ডাকসু নির্বাচনের পর যখন আমরা রাজপথে ছিলাম ছাত্র সংগঠনগুলোর সাথে, আমরা রাজনীতি করেছিলাম, তখন একটা পিক পয়েন্ট ছিল। তখন মানুষ কথা বলতে পারতো না। বেগম খালেদা জিয়ার নামে কথা বললে গুম করা হতো। বিএনপির অনেক বড় বড় নেতারা পোস্টও করতে পারতো না কথাও বলতে পারতো না।

নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমি যখন গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করি, ইয়াসিন আরাফাত ভাই। আমরা তখন কোনো রাজনীতি করতাম না। আমরা বিএনপির মিছিলেও যেতাম, কেন যেতাম, যেতে মন চাইত। এই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটা মিছিল করতে মন চাইত। আমাদের একটা উদ্দেশ্যই ছিল আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজনীতি করবো, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজনীতি করবো। আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখি নাই, আমরা অন্য কিছু দেখি নাই। 

তিনি বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ দেখি নাই, কিন্তু শুনতে শুনতে আমরা এত তিক্ত হয়েছি, আওয়ামী লীগের অপকর্ম— এখন আওয়ামী লীগের নামে কেউ যদি মিথ্যা কথা কয়, ওইটাও বিশ্বাস হয়ে যায় কেন জানি। অবস্থাটা হয়েছে এমন। হাসিনার নামে আমরা শুনছি। ওরে তো আমি একদম স্পষ্ট ভাষায় বলি, ও একটা লম্পট, একটা বাটপার। বাংলাদেশকে একটি নরকে পরিণত করে গেছে এই সংবিধানের মাধ্যমে। ওই সংবিধান বানিয়েছে ওর সংবিধান, ওই সংবিধান বানিয়েছে আওয়ামী লীগের সংবিধান। এটা বাংলাদেশের একাত্তরের সংবিধান কখনো না। এই কারণে এটাকে বলা হয় বাহাত্তরের সংবিধান।

যুবায়ের বলেন, আর আমরা যে সংবিধানকে বাস্তবায়ন করতে চাই সেটাকে বলা হয় চব্বিশের সংবিধান, সেটাকে বলা হয় জুলাইয়ের সংবিধান। আগামী দিনেও যদি এই সংবিধান যদি বাস্তবায়ন হয়, কখনো বলা হবে না ২৬ বা ২৭ এর সংবিধান। এটাকে বলা হবে জুলাইয়ের সংবিধান। কারণ এটা জুলাইয়ের মানুষের আকাঙ্ক্ষার সংবিধান ছিল, এটা বাংলাদেশের মানুষের সংবিধান ছিল, এটা একজন শ্রমিকের সংবিধান ছিল, এটা একজন কৃষকের সংবিধান ছিল, এটা একজন রিকশা চালকের সংবিধান ছিল।

তিনি বলেন, কিন্তু যারা এই সংবিধানকে তেরো সালে বলেছিল, তাদের সভানেত্রী বলেছিল যে, এই সংবিধান যদি আমরা ক্ষমতায় আসি, বাংলাদেশে যদি মানুষের সংসদ, জনগণের সংসদ যদি কখনো প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলা হবে। আর আজকে তারা এই সংবিধানকে নাকি রাখার জন্য বলছে। এটা নাকি ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের সংবিধান। এই সংবিধান কি ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সংবিধান হতে পারে? এই ৩০ লক্ষ শহীদ কি এই একটা ফ্যাসিবাদী সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জীবন দিয়েছিল? কখনোই না। 

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই একটা নতুন বাংলাদেশকে তৈরি করতে হলে, প্রতিষ্ঠিত করতে হলে যেমন এই দেশের ভেতর আমাদের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে— যতই মতাদর্শ আলাদা থাকুক, কিন্তু আমরা বাংলাদেশের পতাকায়, বাংলাদেশের ভূখণ্ডে আমরা একমত। তেমনি এনসিপির অস্তিত্বে আমাদের কোনো বিভাজন আমি দেখতে চাই না।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি সদস্য সচিব জুবায়ের আহমেদ তামজীদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, কেন্দ্রীয় জাতীয় যুবশক্তি সিনিয়র সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত, নারায়ণগঞ্জ জেলা এনসিপি ১ নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হাকিম রাতুলসহ স্থানীয় এনসিপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এবং নতুনদের কে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। 

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন