নরসিংদীতে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন, আটক ২
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ মে ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
নরসিংদী পৌর শহরের সাটিরপাড়া এলাকায় ছোট ভাইয়ের হাত বড় ভাইকে হত্যা অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২ মে) সকালে সাটিরপাড়া এলাকার আজাদ ফিলিংস্টেশনের সামনে এই ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসানসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এআরএম আল-মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হাসান ও আল আমিন উভয়ই নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের আতশআলি বাজারের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে। তারা নরসিংদী পৌর শহরের চৌয়ালায় এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ইজিবাইক (ব্যাটারি চালিত রিকশা) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
নিহতের স্বজনরা জানায়, হাসান ও আল আমিনরা ৫ ভাই ও ২ বোন। তারা নরসিংদী শহরে মিশুক (ব্যাটারিচালিত রিকশা) চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। দীর্ঘদিন ধরে চৌয়ালার বাসিন্দা হাবিবের ছেলে নাইম প্রেমের প্রস্তাব দিচ্ছিল তাদের বোন দুই সন্তানের জননী তাসলিমা বেগমকে। কিন্তু নাইমের প্রেমের প্রস্তাবে তাসলিমা রাজি হচ্ছিল না। এই নিয়ে দীর্ঘদিন নাইমের সাথে বিরোধ ছিল ভাইদের। এই বিরোধে নাইমের ভয়ে তারা গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছিলো।
গত ৩ দিন আগে বড় ভাই আল-আমিন বসে নাইমের সাথে এ ঘটনা মীমাংসা করে চৌয়ালার একটি ভাড়া বাসায় উঠে। কিন্তু তার ছোট ভাই হাসান এটা মেনে নিতে পারেনি। এটা নিয়ে রাতে বড় ভাইকে হাসান, ‘তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করমু’ বলে হুমকি দেন। সকালে আল আমিন বাজার করতে বের হলে সাটিরপাড়া এলাকায় আজাদ ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছাতে ছোট ভাই হাসান তাকে কেঁচি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্বজনরা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী বেগম বলেন, ছোট দেবরের সঙ্গে নাইমের অনেক দিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল। পরে আমরা সবাই মিলে বিষয়টি মীমাংসা করি। কিন্তু নাইম আমার ননদ তাসলিমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাকে বারবার ফোন দিয়ে বিরক্ত করতে শুরু করে। একপর্যায়ে বিয়ে না করলে আমার দেবরকে হত্যা করার হুমকি দেয়। এ ঘটনার পর আমাদের নরসিংদী থেকে গ্রামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
তিনদিন আগে মীমাংসা করে আবার নরসিংদীতে আসি। কিন্তু আমার দেবর আসতে পারেনি এই কারণেই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার আগের রাতে ফোন করে হাসান "তোর রক্ত দিয়ে আমি গোসল করব" বলে হুমকি দেয়, তুই যখন প্যাঁচ ভেঙে গেছিস, আমাদের চিন্তা করিস না, তাহলে তোর মতো ভাইয়ের দরকার নাই। আমি যদি নুরুর সন্তান হয়ে থাকি, তাহলে তোর রক্ত দিয়ে গোসল করব। পরদিন সকালে বাজারে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। আমি স্বামী হত্যার বিচার চাই।
নিহতের বোন তাসলিমা বেগম বলেন, নাইম আমাকে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে বিরক্ত করত। আমি কথা না বললে আমার ভাইদের মেরে ফেলার হুমকি দিত। কিছুদিন আগে লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। এরপর ভয়ে আমরা গ্রামের বাড়িতে চলে যাই। নরসিংদীতে না আসলে কাজকর্ম করা যায় না, তাই ফিরে আসতেই ভাইকে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবীর বলেন, সকালে আল আমিন নামে একজনকে আনা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই আঘাতটি গভীর হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘাতক ছোট ভাই হাসান ও নাইমকে আটক করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। নাইমের নামে বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে।



