করিমগঞ্জে হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, আদালতে মামলা
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার গুজাদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে একটি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে আসামিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ফজলুর রহমান বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের ফখরুল ইসলামের সাথে জমি নিয়ে রহীম, আশিক ও ফজলুসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ২৬ মার্চ ঘাস সংগ্রহ করতে গেলে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে ফখরুল গুরুতর আহত হন। ১৮ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন ১৩ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।
ফজলুর রহমানের দায়ের করা মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে নিহতের ছোট ভাই আল আমিনের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র লোক দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা ঘরের তালা ভেঙে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং গরু বিক্রির নগদ ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এছাড়া ফ্রিজ, টিভি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ পরিবারের নারী সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
বাদী জানান, ঘটনার সময় তিনি অন্য একটি মামলায় জামিন পেয়ে বাড়িতে ফেরার পর বিষয়টি জানতে পারেন। থানায় মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের স্বজনরা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালালে জনশূন্য বাড়িতে নজিরবিহীন লুটপাট চালানো হয়। তারা লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে, নিহতের ছোট ভাই আল আমিন লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভাইয়ের দাফন চলাকালে উত্তেজিত জনতা ক্ষোভ থেকে কিছু ভাঙচুর চালিয়েছে। আমরা এখন শোকাতুর এবং চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। পুলিশ এখনও মূল ঘাতকদের গ্রেপ্তার করেনি।
নিহতের মেয়ে সুবর্ণা আক্তার অভিযোগ করেন, মূল আসামিরা পলাতক থাকলেও জামিনপ্রাপ্তরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও দাবি করেন, আসামিরা স্থানীয় মেম্বারের সহায়তায় নিজেদের মালামাল সরিয়ে নিয়ে উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী এই পাল্টা হামলার ঘটনায় রামনগর ও আশপাশের এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



