কিশোরগঞ্জে বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলার এজাহারে অসঙ্গতি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গোপজিনারাই বড়খালের পাড় এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে মো. মতিন মিয়া ওরফে ফুল মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে ও বাস্তবতায় মিল নেই দাবি অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিবারের। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে ফাঁসাতেই এই মামলা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিবাদী পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করতেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ সাজানো হয়েছে।
জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় শাহ জালাল নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ৯ এপ্রিল বিকেলে মতিন মিয়া তার ৮ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে নিজ ঘরের বাথরুমে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন।
তবে বিবাদী পরিবারের দাবি, ঘটনার ৬ দিন পর মামলা দায়ের করা থেকেই বোঝা যায় এটি সুপরিকল্পিত। ভুক্তভোগীর বড় মেয়ে মুসলিমা আক্তার সাথী জানান, "আমার বাবা কাজ শেষে ক্লান্ত হয়ে গোসল করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে তখন এক আত্মীয়ের মৃত্যুতে শত শত মানুষের সমাগম ছিল। এমন জনাকীর্ণ পরিবেশে এমন ঘটনা ঘটা অসম্ভব। সবচেয়ে বড় কথা, মামলায় ঘরের ভেতর ওয়াশরুমের কথা বলা হলেও আমাদের ঘরে কোনো ওয়াশরুমই নেই।"
মামলার অন্যতম সাক্ষী সীমা আক্তার জানান, তিনি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, "আমার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে অনেক দূরে। আমাকে কেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাক্ষী করা হয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মতিন মিয়াকে একজন শান্ত প্রকৃতির মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত করতে আসা স্থানীয় সালিশকারী (দরবারী) লিয়াকত আলী বলেন, "আমি সরেজমিনে তদন্ত করে শ্লীলতাহানির অভিযোগের কোনো সত্যতা পাইনি। ফুল মিয়া শুধু স্বীকার করেছেন যে, ফুল তোলা নিয়ে তর্কের জেরে তিনি মেয়েটিকে একটি থাপ্পড় দিয়েছিলেন।"
মামলা করতে বিলম্বের বিষয়ে বাদী শাহ জালাল বলেন, "আমরা এখানে নতুন এসেছি, তাই চেয়েছিলাম নিজেরা মিলেমিশে সমাধান করতে। মীমাংসার আশায় চারদিন তাদের পেছনে ঘুরেছি, কিন্তু তারা সাড়া না দেওয়ায় মামলা করেছি। মামলার এজাহারে ওয়াশরুম ঘরের ভিতরে কিন্তু বাস্তবে ওয়াশরুম ঘরের ভিতরে নেই এমন প্রশ্ন করা হলে বাদী শাহ জালাল সঠিক কারণ ও উত্তর দিতে পারেনি।"
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—পুলিশ যেন যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বের করে আনে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা বলেন, অভিযোগের গুরুত্ব এবং কিছু স্পর্শকাতর বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলা হওয়া মানেই যে সব অভিযোগ সত্য, বিষয়টি তেমন নয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা অত্যন্ত নিরপেক্ষভাবে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করবেন। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে আপনারা (গণমাধ্যম বা সংশ্লিষ্ট পক্ষ) যেসব তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, তা যদি তদন্ত কর্মকর্তাকে সরবরাহ করেন, তবে সঠিক সত্য উদ্ঘাটন করা এবং তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা অনেক সহজ হবে।



