Logo
Logo
×

সারাদেশ

৯ বছরেও সংস্কার হয়নি ভেলাকোপা হানাগড়ের মাথা সেতু: চরম দুর্ভোগ, ক্ষোভে মানববন্ধন

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

৯ বছরেও সংস্কার হয়নি ভেলাকোপা হানাগড়ের মাথা সেতু: চরম দুর্ভোগ, ক্ষোভে মানববন্ধন

দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকা ভেলাকোপার হানাগড়ের মাথা সেতু। এতে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা। বন্যার পানিতে ভেঙে যাওয়ার পরও আজ পর্যন্ত কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকাবাসী। আসন্ন বন্যা মৌসুম আসার আগেই দ্রুত সংস্কারের দাবিতে  শনিবার ২৫ এপ্রিল মানববন্ধন করেছে স্থানীয় সংগঠন তারুণ্যের উচ্ছ্বাস মানবিক যুব সংগঠন।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভেলাকোপা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হানাগড়ের মাথা বটতলীর বাজার এলাকায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ এই ব্রিজটি ২০১৭ সালের ভয়াবহ বন্যায় পূর্বাংশে ধসে পড়ে। তারপর থেকে একের পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও ব্রিজটি সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সেবাগুলো থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ।

বিশেষ করে ব্রিজের পূর্বপারে বসবাসরত অসংখ্য পরিবার—যাদের বেশিরভাগই কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত—তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। জরুরি পরিস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও সেখানে পৌঁছাতে পারে না, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করছে।

এই অচলাবস্থার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। উপস্থিত ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক জেলা আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ, সংগঠনের উপদেষ্টা মোঃ এরশাদুল হক, সভাপতি জীবন কুমার সেন, কোষাধ্যক্ষ মিনহাজুল ইসলাম, হাফেজ শাহিন আলমসহ অন্যান্যরা।

মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতু ৯ বছর ধরে অচল পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, বারবার দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সমস্যার সমাধান হয়নি।

আব্দুল আজিজ বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি সংস্কার না হওয়ায় আমরা হতাশ। অবিলম্বে সংস্কার কাজ শুরু করতে হবে, নইলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

সংগঠনের উপদেষ্টা এরশাদুল হক বলেন, “এই ব্রিজ এলাকার মানুষের জীবনরেখা। এটি ভাঙা থাকায় কৃষকরা তাদের ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না। এমনকি জরুরি সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।”

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক বি এম কুদরত-এ-খুদা জানান, আপাতত অস্থায়ীভাবে কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন—একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সংস্কারে কেন ৯ বছর পার হয়ে যায়? আর কতদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে তাদের? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত রূপ পায়।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন