শেরপুরে পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ১
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে মাত্র ৫ হাজার টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে করিম প্রামানিক ওরফে হাদু (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আনোয়ার মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত করিম প্রামানিক ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক বাদী হয়ে শেরপুর থানায় ছয় জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) পেশায় একজন শ্রমিক এবং তিনি আটককৃত কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার অধীনে কাজ করতেন। কাজের মজুরি বাবদ আনোয়ারের কাছে শফিকুলের ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
গত ২১ এপ্রিল রাত পৌনে ৯টার দিকে শফিকুল পাওনা টাকা চাইলে আনোয়ার মোল্লা তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় ডেকে নেন। সেখানে গেলে আনোয়ার মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে আনোয়ারের নির্দেশে হাফিজ মোল্লা গাছের ডাল দিয়ে শফিকুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
এ সময় ছেলের চিৎকার শুনে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার বাবা করিম প্রামানিক। অভিযোগ রয়েছে, তখন আনোয়ার মোল্লা লোহার শাবল দিয়ে করিম প্রামানিকের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাবু মোল্লা, হাফিজ মোল্লাসহ অন্য আসামিরা লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন ২২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফেরার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানান, ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পাশাপাশি অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



