নরসিংদী সদর হাসপাতালে বদলি ঠেকাতে কর্মবিরতি, আউটসোর্সিং কর্মীদের মাঠে নামালেন দুনীতিবাজ মনসুর
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৩ পিএম
বদলি ঠেকাতে হাসপাতালে কর্মরত আউটসোর্সিং কর্মীদের দিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা একঘন্টা বন্ধ রেখে কর্মবিরতি পালন করিয়েছেন বদলিকৃত দুনীতিবাজ মনসুর। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে |
এ সময় টিকিট কাউন্টারসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই সেবা না পেয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন, আর হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালের অভ্যন্তরের সকল কলাপসিবল গেইটে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে কর্মবিরতি পালন করে আউটসোর্সিং কর্মীরা। পরে আবার সকাল ১১টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করে আউটসোর্সিং কর্মীরা।
ঘণ্টাব্যাপী কর্মবিরতি চলাকালে আউটসোর্সিং কর্মী আলমগীর জানান, নরসিংদী সিভিল সার্জন হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো. মনসুর আহমেদের বদলির আদেশ বাতিলের আশ্বাস দিয়েছেন। যার কারণে আজকের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। তবে বদলি আদেশ স্থগিত না হলে সামনে আরো দীর্ঘ সময় কর্মবিরতি পালন করা হবে। দরকার হলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সহ সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে|
এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। একটি ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য পুরো হাসপাতালের সেবা বন্ধ করে দেওয়াকে তারা অমানবিক ও অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেন।
অন্যদিকে, নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবীর স্পষ্ট ভাষায় জানান, বদলি একটি স্বাভাবিক সরকারি প্রক্রিয়া এবং তা অমান্য করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমি কাউকে বদলি আদেশ বাতিলের কোনো আশ্বাস দেইনি। যারা সেবা বন্ধ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ভুল বোঝাবুঝির কারণে প্রায় ৪০মিনিট কর্মবিরতি হয়েছে, পরে সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে সবাই যার যার কাজ শুরু করেছে। তবে এতে রোগীদের ভোগান্তি হয়েছে এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. মনসুর আহমেদ। তার দাবি, আমি হাসপাতালে উপস্থিতই ছিলাম না, আর কোনো আন্দোলনও করাইনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, একজন কর্মচারীর ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষায় কেন পুরো হাসপাতালকে জিম্মি করা হলো? এবং এর পেছনে কারা রয়েছে? এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি নিজের স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান "মেসার্স তাহিরা এন্টারপ্রাইজ" এর মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের এসব দুর্নীতির পর তার বদলিতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন নরসিংদী জেলা সদর হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক মো: মনসুর আহমেদ।
অবশেষে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দীন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে নেত্রকোনার কমলাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিসাবরক্ষক পদে বদলি করা হয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, জনস্বার্থে এ বদলির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং আদেশ জারির তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় চতুর্থ কর্মদিবস থেকে তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।



