শেরপুরে ভাইস চেয়ারম্যান পদে শিমুলের প্রচারণা জোরদার
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা হাসানুল মারুফ শিমুলের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ইতোমধ্যে তার রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততা এবং ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
হাসানুল মারুফ শিমুল শেরপুর শহরের মৃত মুন্সী আব্দুল জব্বারের ছেলে। সরকারি চাকরিজীবী পরিবারের সন্তান হওয়ায় শৈশবে ঢাকায় তার পড়াশোনা হয়। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি। শৈশবের একটি স্মৃতিচারণে জানা যায়, একসময় জিয়াউর রহমান বিদেশ সফর শেষে দেশে ফেরার পর বিমানবন্দরে শিশুদের দীর্ঘ সময় রোদে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রতিবাদ জানান এবং শিশুদের মাঝে চকলেট বিতরণ করেন। সে সময় ছোট্ট শিমুল তার সঙ্গে করমর্দন করার সুযোগ পান—যা তার জীবনে একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮৬ সালে শেরপুর ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে অংশ নেন। ১৯৮৯ সালে কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯২ ও ১৯৯৮ সালে শহর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯৯ সালে শহর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দলীয় রাজনীতিতে ধারাবাহিক অগ্রগতির অংশ হিসেবে ২০১০ সালে তিনি শেরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি বগুড়া জেলা ছাত্রদল ও জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন শিমুল। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হন বলে তার সমর্থকদের দাবি। ওয়ান-ইলেভেনের সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের প্রতিবাদে রাজপথে সক্রিয় থাকার কারণে একাধিকবার মামলা ও হামলার সম্মুখীন হন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগও করতে হয় তাকে।
রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন বলে জানা গেছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেওয়া, অসুস্থ নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো এবং জানাজায় অংশগ্রহণের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি নিয়মিত অংশ নেন।
শিমুল জানান, স্থানীয় বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে জানে আলম খোকা, মাহবুবুর রহমান হারেজ, ভিপি শহিদুল ইসলাম বাবলু ও পিয়ার হোসেন পিয়ারকে তিনি তার আদর্শ হিসেবে মানেন।
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমি শেরপুর উপজেলার মানুষের পাশে আছি। সুখে-দুঃখে তাদের সঙ্গে থেকেছি। জনগণের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আশা করছি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।”
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। দলীয় সমর্থন, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তৃণমূলের সঙ্গে সংযোগ—এসব বিষয়কে সামনে রেখে নির্বাচনে তার অবস্থান কেমন হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।



