ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস
সীমান্তে রক্তক্ষয়ী প্রতিরোধের স্মৃতি, বীরত্ব আর বেদনার ২৫ বছর
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২২ পিএম
আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস। ২০০১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী গ্রাম রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের এক ভয়াবহ প্রান্তরে—যার দুঃসহ স্মৃতি আজও সীমান্তবাসীর হৃদয়ে অম্লান।
ভোররাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে বড়াইবাড়ী গ্রামে অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। আকস্মিক এই আক্রমণে পুরো গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, শুরু হয় ধ্বংসযজ্ঞ।
তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর)—বর্তমান বিজিবি—এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীব্র প্রতিরোধের মুখে একপর্যায়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। সংঘর্ষে বিএসএফের ১৬ সদস্য নিহত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
এই সংঘর্ষে শহীদ হন ৩৩ রাইফেল ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওহিদুজ্জামান, সিপাহী মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের সিপাহী আব্দুল কাদের। এছাড়া উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। স্থানীয় নারী-পুরুষসহ অনেক সাধারণ মানুষও আহত হন ওই ঘটনায়।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিলেটের পাদুয়া সীমান্তে ঘটে যাওয়া পূর্ববর্তী ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এ হামলা চালানো হয়। ওই দিনের তাণ্ডবে বড়াইবাড়ী গ্রামের অন্তত ৬৯টি ঘরবাড়ি পুড়ে যায় এবং প্রায় দুই কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।
দীর্ঘ ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বড়াইবাড়ীর মানুষের কাছে সেই দিনটি এখনো দগদগে স্মৃতি। বর্তমানে সেখানে দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করছে। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তায় তারা নতুন করে বসতি গড়ে তুললেও নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক জানান, দিবসটি উপলক্ষে আজ এলাকায় মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অতিথিরা অংশ নেবেন।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক হাসিবুর রহমান হাসিব বলেন, “ঐতিহাসিক বড়াইবাড়ী দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বীর সৈনিকদের আত্মত্যাগ কতটা অনন্য ও গৌরবময়।”



