নরসিংদীতে ড্রেন বন্ধ নিয়ে প্রতিবাদে সন্ত্রাসী হামলা
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
নরসিংদী পৌর শহরের বৌয়াকুড় এলাকায় ড্রেন বন্ধ হওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় প্রকাশ্যে নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণাধীন ভবনের বেপরোয়া রাবিশ ফেলে ড্রেন বন্ধ করে রাখার প্রতিবাদ করায় প্রতিবেশী পরিবারকে টার্গেট করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে চারজনকে।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় আহতরা হলো- মো. ফজলুল হক (৫৮), তার ছেলে মিরাজুল হক এবং শরিফ ও দোকান কর্মচারী হৃদয় মিয়া।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, ফজলুল হকের টিনশেড বাড়ির সামনে মনিরুজ্জামানের নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে নিয়মিত ইট, বালু ও সিমেন্ট পড়ে ড্রেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কর্ণপাত করেননি ভবনমালিক। বাধ্য হয়ে ফজলুল হক পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী এনে ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন।
পরিচ্ছন্ন কর্মী এসে ড্রেন পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। এসময় ফজলুল হক নির্মাণ সামগ্রী ড্রেনে না ফেলার জন্য মনিরুজ্জামানের ছেলে নিহালসহ তার পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ করে। এ অনুরোধ করলে মনিরুজ্জামানের ছেলে নিহালসহ তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। কথার জবাবে শুরু হয় অশ্রাব্য গালাগালি, আর প্রতিবাদ করতেই নেমে আসে ভয়ংকর হামলা। অভিযোগ অনুযায়ী, নিহাল ও তার ভগ্নিপতি আনোয়ারের নেতৃত্বে ৪-৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ফজলুল হকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
পিতাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিরাজুল হককে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়, গুরুতর জখম হয় তার পিঠ, হাত ও ঘাড়। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসা শরিফ ও হৃদয় মিয়াকেও রেহাই দেওয়া হয়নি, তাদেরও নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। হামলার পর অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার দিনই নিহাল, আনোয়ার হোসেনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নরসিংদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



