Logo
Logo
×

সারাদেশ

রায়ে অসন্তোষ আবু সাঈদের মা-বাবার

Icon

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

রায়ে অসন্তোষ আবু সাঈদের মা-বাবার

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন তার বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়া জানান তারা।

আবু সাঈদের মকবুল হোসেন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া আমার ছেলেকে গলা টিপে ধরেছিল তার সর্বোচ্চ শাস্তি হলো না। আরও কঠোর সাজা দেওয়া দরকার ছিল। আরো অনেককে ফাঁসি দেয়া দরকার।

মকবুল হোসেন দাবি করেন, অনেক অপরাধী পালিয়ে গেছে। বড় অপরাধীদের এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশের বড় কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোটদের সাজা দেওয়া হয়েছে।

সরকারের কাছে আমার দাবি, যারা পালিয়ে তাদের ধরে এনে ফাঁসি দিতে হবে। এসময় আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষে থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মনোয়ারা বেগম বলেন, আরও বেশি আসামির ফাঁসি দিলে খুশি হতাম। এই রায়ে আমরা খুশি নই। আমার ছেলে অনেক অত্যাচারের শিকার।  

প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে ২ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় দেয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন- পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

রায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন ও ৫ জনকে ১০ বছরেরসহ ৩০ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়। যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া তিন আসামি হলেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।

এছাড়া বেরোবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু ও রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বেল্টু, গণিত বিভাগের সাবেক সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ ও তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

৫ বছর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক ডেপুটি কমিশনার (ক্রাইম) মো. আবু মারুফ হোসেন টিটু (পলাতক), সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী সুমন (পলাতক), বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান তুফান, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী দিশা, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান বাবু ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলে রাব্বী, সহসভাপতি আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ আরিফ, ধনঞ্জয় কুমার টগর, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনের ৩ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

৩ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আরও কয়েকজন হলেন- বিশ্ববিদ্যালয় এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন আমু, সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ। এছাড়া বেরোবির প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলকে হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আবু সাঈদের সহযোদ্ধা শামসুর রহমান সুমন বলেন, শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে গুরুতর অপরাধ করা আসামিদের লঘু শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যাদের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, নিশ্চই তাদের বিষয়ে আদালত চিন্তা করবে বলে প্রত্যাশা করছি। রায়ে যাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে, তাদের রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া অভ্যুত্থানের সময় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তার শাস্তি কম দেওয়া হয়েছে।

আবু সাঈদের সহযোদ্ধা আশিকুর রহমান আশিক বলেন, আমাদের দুঃখের সাথে জানাতে হয় যে- এটি ছিল স্পষ্ট পুলিশি হত্যাকাণ্ড। পুলিশের এসি ইমরান শিক্ষার্থীদের ওপর ঢিল ছুড়েছিল, হামলার জন্য নির্দেশনা দিয়েছিল। কিন্তু তাকে মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আদালত এ বিষয়টি বিবেচনায় আনবে।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার সাক্ষী আরমান হোসেন বলেন, এ রায়ে ১১ জুলাই, ১২ জুলাই ও ১৬ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর যেসব আসামিরা হামলা চালিয়েছে তাদের কম সাজা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যাশা অনুযায়ী রায় ঘোষণা হয়নি। বিজ্ঞ আদালত এটি আমলে নেবে ও রায় পুনরায় বিবেচনা করবে বলে প্রত্যাশা করছি। 

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন