শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় শিশুদের সৃজনশীলতার উচ্ছ্বাস
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলার দ্বিতীয় দিনটি পরিণত হয় শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার এক প্রাণবন্ত উৎসবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, যেখানে অংশ নেয় স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের তথ্যমতে, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রায় ১১০ জন এবং আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অন্তত ৫০ জন শিশু-কিশোর অংশগ্রহণ করে। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
চিত্রাঙ্কনে অংশ নেওয়া ক্ষুদে শিল্পীরা তাদের তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলে প্রকৃতি, দেশপ্রেম, গ্রামবাংলার সৌন্দর্য ও কল্পনার নানা রঙিন জগৎ। অন্যদিকে, আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় শিশুদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় কবিতার ছন্দ, আবেগ ও শৈল্পিক প্রকাশ, যা মুগ্ধ করে উপস্থিত দর্শকদের।
পুরো আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ বইমেলার অর্গানাইজার মো. রুহুল আমিন ও মো. ইমরান হোসেন। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার সমন্বয় করেন স্থানীয় চারু নিকেতনের পরিচালক আমিনুল ইসলাম মাসুদ। আর আবৃত্তি প্রতিযোগিতা পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইফতেখার আলম ফরহাদ এবং মো. রুহুল আমিন।
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের মাঝে সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটানো এবং বইয়ের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ানোই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুল মাঠে চলমান এই বইমেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে উঠছে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও আনন্দের মিলনমেলায়।
উল্লেখ্য, আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলার সমাপ্তি ঘটবে।



