টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু: নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
মিয়ানমারের সংঘাতের জেরে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকা কক্সবাজারের টেকনাফ-স্থলবন্দর সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর লক্ষ্যে টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। এ সময় ওয়ার হাউসের পরে থাকা পণ্যেসহ স্থলবন্দর ঘুরে দেখেন।
সোমবার সকালে সাড়ে ১১ টার দিকে তিনি টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী এলাকায় নাফনদী সংলগ্ন স্থলবন্দরে পৌছে স্থলবন্দের সকল সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলার বাহিনীর সাথে বৈঠকে বসেন।
স্থলবন্দর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, ‘স্থলবন্দর পুনরায় সচল করতে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ইতিমধ্য আমরা ব্যবসায়ীসহ বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ সবার সাথে আলোচনা করেছি। এছাড়া সিএন্ডএফ এজেন্ট, কাস্টমস, এনবিআরসহ সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে আজ থেকে এই কার্যক্রম পুনরায় সচল করা হয়েছে।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা বাণিজ্য কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাই। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের সমন্বয়ের মাধ্যমেই সীমান্ত বাণিজ্য পরিচালিত হবে। সেই ভিত্তিতেই টেকনাফ স্থলবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়েছে।”
এদিকে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মুহাম্মদ মানজারুল মান্নান জানিয়েছেন, বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে খোলা থাকলেও কিছু নিরাপত্তা ঘাটতি ছিল। তবে বর্তমানে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে আর বড় কোনো বাধা নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পুনরায় বন্দর কার্যক্রম সচল করা হচ্ছে।”
এসময় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী, টেকনাফ ২-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রকিব উদ্দিনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে দেড় বছর ধরে চলমান যুদ্ধে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে। এর ফলে নাফ নদের মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে গোষ্ঠীটি। ফলে গত বছর এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যেবাহি জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবির কারনে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারকও। আজ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পণ্যেবাহি জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে।



