বগুড়া শেরপুরে ভ্রাম্যমাণ বইমেলায় বইপ্রেমীদের ভিড়
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
বগুড়ার শেরপুরে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ বইমেলা। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও মেলায় বইপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে মেলার পরিবেশ।
শহরের শেরপুর সরকারি ডি জে মডেল হাইস্কুল খেলার মাঠে আয়োজিত এ বইমেলা চলবে আগামী মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকছে।
মেলার এক কোণে তাঁবুর নিচে সাজানো হয়েছে বুকশেলফের পর বুকশেলফ। সেখানে দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান লেখকের অন্তত ১০ হাজার বই স্থান পেয়েছে। শিশুতোষ বই থেকে শুরু করে কিশোর, তরুণ ও প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী নানা ধরনের বই ঘিরে পাঠকদের আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। দলবেঁধে পাঠকরা বই দেখছেন, পড়ছেন এবং পছন্দের বই কিনছেন।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এ বইমেলার আয়োজন করেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র। রবিবার বিকেলে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইদুজ্জামান হিমু।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মেলার দ্বিতীয় দিন সোমবার (৬ এপ্রিল) আয়োজন করা হয়েছে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। এতে স্থানীয় শিশুশ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। প্রতিযোগিতার বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে— যেমন খুশি, গ্রামের দৃশ্য, ভাষা আন্দোলন ও জেলার ইতিহাস। মেলার শেষ দিন মঙ্গলবার বিকেলে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
মেলায় আগত বিক্রয়কর্মী রুবেল রানা জানান, বইয়ের নির্ধারিত মূল্যের ওপর ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দিনগুলোতে আরও বেশি দর্শনার্থী সমাগম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের বিভিন্ন মহল্লা থেকে শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকেরাও মেলায় ভিড় করছেন। শেরপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোজাফফর হোসেন ও শিক্ষিকা হালিমা খাতুন বলেন, এ ধরনের বইমেলা শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং তাদের বই পড়ার আগ্রহ বাড়ায়।
মেলায় এসে বই দেখছিল শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার ও সপ্তমী দত্ত। তারা জানায়, পছন্দের বই পড়ার পাশাপাশি কয়েকটি বই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। আরেক শিক্ষার্থী মোছা. আয়তন আক্তার জানায়, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস থাকায় বইমেলায় এলে সে বই কিনে থাকে। এবারও বিভিন্ন লেখকের চারটি বই কিনেছে।
সব মিলিয়ে, আবহাওয়ার বিরূপতা উপেক্ষা করেও শেরপুরের এই ভ্রাম্যমাণ বইমেলা বইপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।



