বগুড়া-৬ উপনির্বাচন: বিএনপি ও জামায়াতের প্রা
বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপনির্বাচন ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। অনিয়ম, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা অভিযোগ করেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি দাবি করেন, তাদের পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে এবং অনেক জায়গায় বিএনপির ব্যানারের ওপর অন্য দলের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রেজাউল করিম বাদশা বলেন, ‘আমরা সহনশীল অবস্থানে আছি। কেউ উসকানি দিলে আমরা তা এড়িয়ে যাচ্ছি। পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধাতে চাইলেও আমরা সেই ফাঁদে পা দেব না।’ তিনি নেতা-কর্মীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে।
প্রতিপক্ষের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বগুড়াকে মাগুরা বলে হাস্যকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক কথা।’ তিনি দাবি করেন, বগুড়ায় প্রতিপক্ষের জয়ের কোনো ইতিহাস নেই এবং অতীতেও তারা পরাজিত হয়েছে।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অযথা অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। কেউ কেউ ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে জান্নাতের টিকিট বিক্রির মতো প্রতারণামূলক কথাবার্তা বলছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’ তাঁর মতে, সাধারণ মানুষ এখন এসব বুঝতে পারছে এবং বিভ্রান্ত হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনোভাবেই ‘পিছনের দরজা’ দিয়ে নির্বাচনে আসেনি, বরং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বাদশা বলেন, বগুড়ার উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছেন, যা শিগগিরই অনুমোদন পাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছি। ভোটাররা আমাদের পক্ষে রয়েছে। ইনশাআল্লাহ, একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে জয়ী হব।’
এর আগে, শনিবার বগুড়া শহরের দলীয় কার্যালয়ে পৃথক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানও নানা অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনী পরিবেশ ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যে আবিদুর রহমান বলেন, বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে, কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর অভিযোগ, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা, নির্বাচনী সভা পণ্ড করার চেষ্টা এবং প্রতিপক্ষের প্রতীকসংবলিত ব্যানার টানানোর মতো ঘটনাও ঘটছে।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আবিদুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল ও কারচুপির চেষ্টা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি পাঁচ দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ এবং নির্বাচনের আগে সেনাবাহিনী মোতায়েন।



