পাঠচক্রের সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করল আয়েশা-আফতাব-নাহার পাবলিক লাইব্রেরি
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
উত্তাল মার্চের শেষ দিনে স্বাধীনতার চেতনায় আয়োজিত এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানে পাঠচক্রের সেরা পাঠকদের পুরস্কৃত করল কিশোরগঞ্জের আয়েশা-আফতাব-নাহার পাবলিক লাইব্রেরি। একই সঙ্গে আলোচনা সভা, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন, যেখানে নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করার বার্তা প্রশংসা কুড়ায় উপস্থিত মহলে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যায় জেলা শহরের গাইটাল এলাকার আয়েশা-আফতাব-নাহার পাবলিক লাইব্রেরি সংলগ্ন চৌধুরী মহলে ‘আলোকিত সমাজ ও পাঠাগার’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
লাইব্রেরির প্রতিষ্ঠাতা ফিরোজ উদ্দিন ভূঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা গ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান আজিজুল হক। প্রকৌশলী কামরুল হাসান বাদলের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট লেখক ও কলামিস্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন ফারুকী, প্রফেসর আব্দুল গনি, সিনিয়র সাংবাদিক সাইফুল হক মুল্লা দুলু, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আতিয়া হোসেন এবং বেসরকারি গণগ্রন্থাগার সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার বর্মন প্রমুখ।
আলোচনা পর্বে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ উপলব্ধি করতে হলে ইতিহাস জানতে হবে, আর সেই জানার সবচেয়ে বড় মাধ্যম বই।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে তরুণদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে, যা একটি জাতির জন্য উদ্বেগজনক। তাই পরিবার, সমাজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে পাঠাগারমুখী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একটি শক্তিশালী, সচেতন ও মানবিক সমাজ গঠনে পাঠাগার এবং পাঠচক্রের বিকল্প নেই বলেও তারা মত দেন।
অনুষ্ঠানে পাঠচক্র প্রতিযোগিতায় সেরা তিনজন পাঠককে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ ও বইপ্রেমীরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও জোরদার হবে।
তারা মনে করেন, একটি পাঠাগার কেবল বই রাখার স্থান নয়, এটি একটি আলোকিত সমাজ গড়ার কেন্দ্র। স্বাধীনতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যদি নতুন প্রজন্ম বইয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়, তবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ হবে আরও সমৃদ্ধ, সচেতন ও মানবিক।
স্বাধীনতার মাসের শেষ প্রান্তে এমন আয়োজন জ্ঞানচর্চা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।



