রেলবঞ্চিত কুড়িগ্রাম, আন্তর্জাতিক রুট চালুর জোর দাবি
কুড়িগ্রাম প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৪:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রেল যোগাযোগে পিছিয়ে পড়া সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। সম্ভাবনা থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় থমকে আছে উন্নয়ন, ব্যাহত হচ্ছে বাণিজ্য ও স্বাভাবিক যাতায়াত। এই বাস্তবতায় রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের দাবিতে এবার সরব হয়েছেন স্থানীয়রা। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের মাধ্যমে একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, কুড়িগ্রামে রেল যোগাযোগের ইতিহাস থাকলেও সময়োপযোগী উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের অভাবে জেলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
আবেদনে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—কুড়িগ্রাম-নাগেশ্বরী-ভূরুঙ্গামারী-সোনাহাট রেললাইন পুনঃস্থাপন, ধরলা সেতুর পাশে রেলসেতু নির্মাণ, কুড়িগ্রাম-চিলমারী-গাইবান্ধা হয়ে ঢাকার সঙ্গে বিকল্প রেল করিডোর চালু এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে রেল সংযোগ জোরদার করা।
বিশেষ করে সোনাহাট স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ চালু হলে ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভুটানকে ঘিরে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নত রেল যোগাযোগ না থাকায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, “ভালো রেল ব্যবস্থা না থাকায় আমরা পিছিয়ে আছি। রেললাইন চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”
নাগেশ্বরী পৌর এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, “জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় যেতে দীর্ঘ সময় লাগে। রেল যোগাযোগ উন্নত হলে মানুষের দুর্ভোগ অনেক কমবে।”
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের ব্যবসায়ী আব্দুল লতিফের ভাষ্য, “সোনাহাট বন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ চালু হলে সীমান্ত বাণিজ্যে বড় পরিবর্তন আসবে। এতে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।”
কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ বলেন, “কুড়িগ্রামকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে রেল যোগাযোগের বিকল্প নেই। সোনাহাট হয়ে ভারতের আসাম এবং গাইবান্ধা হয়ে ঢাকার সঙ্গে দ্রুত রেল সংযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন।”
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুসহ অন্যান্য নেতারা আবেদনটি জমা দেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে জেলার উন্নয়নে এখনই রেল যোগাযোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।



