রূপগঞ্জে দুবাই প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা, বন্ধুর হাত পায়ের রগ কর্তন
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:৫১ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে মাসুম মিয়া (২২) নামের এক দুবাই প্রবাসীকে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তার বন্ধু রমজান মিয়াকে হাত এবং পায়ের রগ কেটে তাকে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গত সোমবার রাতে উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের টাওরা পশ্চিম পাড়া এলাকায় ঘটে এ হামলার ঘটনা।
নিহত মাসুম মিয়া টাওরা পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে। কর্ম জীবনের তাগিদে তার মা নার্গিস বেগম মালয়েশিয়া রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর পর দুবাই থেকে দেশে আসেন মাসুম মিয়া। মাসুম মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার রাসেল মিয়ার পাওনা টাকা লেনদেন নিয়ে বিদেশে যাওয়ার পূর্ব থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
সোমবার মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান মিয়া মোটরসাইকেলে করে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে বের হন। এ সময় নিজ বাড়ির সামনে ঘোড়াশাল-পাঁচদোনা সড়ক সংলগ্ন স্থানে প্রতিপক্ষ রাসেল মিয়া, মাহবুব মিয়া, উজ্জল ও তুষার মিয়াসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাসুম মিয়া ও তার বন্ধু রমজান মিয়ার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় মাসুম মিয়াকে চাপাতি ও ছুরি দিয়ে এলোপাথা এভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখন করা হয়। এছাড়া বন্ধু রমজান মিয়ার হাত এবং পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে আসলে হামলাকারিয়া পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতংক বিরাজ করছে।
মুমূর্ষ অবস্থায় নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মাসুম মিয়া মারা যান এবং রমজান মিয়াকে মুমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, বিক্ষুব্ধ নিহতের স্বজনরা অভিযুক্তদের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করেন। খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, অভিযুক্তরা মাদকাসক্ত। এছাড়া সোহেল হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। এলাকায় একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকান্ড করে আসলেও তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার সাহস নেই। যার কারণে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তারা ঘটিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
রূপগঞ্জ থানার ওসি/তদন্ত মোক্তার হোসেন বলেন, তাওরা এলাকায় একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করেছি। নিহতের পক্ষ থেকে রূপগঞ্জ থানায় এখন পর্যন্ত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



