দুর্ঘটনায় আহত চট্টগ্রামের এসপির জন্য সহকর্মীদের অনন্য আন্তরিকতা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান নিজ বাসভবনে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার চিকিৎসার তদারকিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, র্যাব, সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ সদস্যদের।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুর্ঘটনার খবর শোনার পর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সার্বক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উপস্থিত থেকে আহত পুলিশ সুপারের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করেন।
হাসপাতালে থাকা অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত রাজধানী ঢাকায় স্থানান্তরের লক্ষ্যে সহযোগিতা চেয়ে তিনি সরাসরি ফোনে কথা বলেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ফোর্সেসের মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশের সঙ্গে।
এছাড়া জেলা প্রশাসক বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অফিসার কমান্ডিং (এওসি) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুনের সহযোগিতাও নেন। বিমান বাহিনীর সহায়তায় বাংলাদেশ পুলিশের একটি হেলিকপ্টার বিমান বাহিনীর ঘাঁটির পাশেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেসের হেলিপ্যাডে দ্রুত অবতরণের ব্যবস্থা করা হয়।
সেখানে উপস্থিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হেলিকপ্টারটি অবতরণের পরেও ইঞ্জিন চালু অবস্থায় প্রস্তুত ছিল, যাতে পুলিশ সুপারকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তর করা যায়। পুলিশ সুপারকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে হেলিকপ্টারে তোলার পরপরই এটি ঢাকার উদ্দেশ্যে উড্ডয়ন করে।
এই বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, এসপি স্যারকে ঢাকায় স্থানান্তরের বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকেই করা হয়েছিল। তবে এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম স্যার এবং র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান স্যার নিজে হেলিপ্যাডে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার ভূয়সী প্রশংসা করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ডিসি স্যার এসপি স্যারকে দেখতে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখান থেকে তিনি এসপি স্যারের সঙ্গেই চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আর্মি এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেসের হেলিপ্যাডে যান। শুধু তাই নয়, তিনি হেলিকপ্টারের জন্য অপেক্ষা করেন এবং এসপি স্যারকে হেলিকপ্টারে উঠিয়ে দিয়ে সেখান থেকে বের হন।
গুরুতর আহত এসপির প্রতি জেলা প্রশাসক ও র্যাবের কমান্ডিং অফিসারের এমন আন্তরিকতাকে সহকর্মীর প্রতি সহকর্মীর অনন্য ভালোবাসা হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সদস্যরা।
এসপি নাজির আহমেদের আহত হওয়ার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা উল্লেখ করে র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা সবাই মিলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ঢাকায় স্থানান্তর করেছি। একজন মানুষ হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব—এতে বিশেষ কিছু করিনি।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, এসপি মহোদয় চট্টগ্রাম স্টেশনে আমাদের খুবই কর্মঠ ও দায়িত্বশীল একজন
সহকর্মী। তার সুচিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি জহুরুল হকের এয়ার অফিসার কমান্ডিং (এওসি) এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন স্যার, র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ স্যার এবং র্যাবের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান মহোদয়সহ সবাই আমাদের আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আর্মি এভিয়েশন গ্রুপও সহযোগীতা করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি বলেন, আমরা এসপি মহোদয়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং সবার কাছে দোয়া চাইছি।
চট্টগ্রামের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় এসপি নাজির আহমেদের পা ও কোমরের সংযোগস্থলের হাড় ভেঙে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ পুলিশের একটি হেলিকপটারযোগে তাকে ঢাকায় অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়।
এসপি নাজির আহমদের সঙ্গে ঢাকায় হাসপাতালে অবস্থানরত তার স্ত্রী শাহানারা শিল্পী টেলিফোনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তার স্বামীর অপারেশন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালেই করা হবে। তিনি তার স্বামীর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।



