বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির নেতা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এই আদেশ দেন।
এর আগে, শুক্রবার ভোররাতে রাজধানীর রমনা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে ঢাকায় থেকে বগুড়ায় এনে আদালতে তোলা হয়।
জিন্নাহর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরসহ প্রায় এক ডজন মামলা রয়েছে। এর মধ্যে জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও বিস্ফোরক আইনের ১০টি মামলা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দুটি মামলা উল্লেখযোগ্য। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন।
বগুড়া ডিবির ওসি ইকবাল বাহার জানান, আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকার একটি স্থানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্র বলছে, জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর মামলা দায়ের হয়। বিশেষ করে ছাত্র হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে হওয়া মামলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর পর থেকেই তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে জিন্নাহর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের বাইরে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন।
এদিকে, তার পরিবারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী মোহসীনা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা চলমান এবং তিনি বর্তমানে পলাতক বলে জানা গেছে। আদালতের নির্দেশে তার ব্যাংক হিসাব ও স্থাবর সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।
জিন্নাহর বড় ছেলে হুসাইন শরীফ সঞ্চয়কেও আগে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছেন।
রাজনৈতিক জীবনে জিন্নাহ ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০১৮ সালেও তিনি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও পরে সরে দাঁড়ান। ২০২৬ সালের নির্বাচনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয় এবং পরে ফিরে পেলেও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন।



