হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর-অগ্নিসংযোগ
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০১:০১ পিএম
কিশোরগঞ্জে একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের গ্রেফতার আতংকে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর নিহতের পক্ষের লোকজন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বগাদিয়া গ্রামে এমন তান্ডব চালায়।
জানা গেছে,গত ১৭ মার্চ সকালে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হন মারিয়া ইউনিয়নের বগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো: সুমন (৪১)। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হন দুলাল মিয়া নামে আরও একজন। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্ত রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জুম্মন বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আসামি পক্ষের দাবি, ঘটনার পর নিহতের আত্মীয় স্বজন কয়েক বসত ঘরে হামলা চালায়। তারা
বসতঘরের সমস্ত আসবাবপত্র, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ছাড়াও খামার থেকে ৪টি গরু নিয়ে যায়। এমনকি ঘরের দরোজা জানালা ও ইট খুলে নেয়া হয়। লুটপাটের পর কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা মো: সুমনের হত্যার সুষ্ঠু বিচার চান। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না থাকা নিরীহ মানুষও এখন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে গরু-বাছুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটে নিচ্ছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
ভুক্তভোগী পারভীন আক্তার বলেন, রশিদের নেতৃত্বে ইফতারের সময় হঠাৎ করে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলা চালিয়ে ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘরে থাকা স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ভাঙচুর-লুটপাট শেষে কেরোসিন ঢেলে ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়, আমরা এক কাপড়ে প্রাণ বাঁচাতে অন্যত্র পালিয়ে যাই। আমরা নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার চাই এবং নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে চাই।
ভুক্তভোগী খুশ নাহার বলেন, আমার নিরপরাধ বাবা আমার শশুরবাড়ি এলাকায় জায়গা কিনে গরুর ফার্মসহ ঘর তুলেছে। তারা সেখানে হামলা চালিয়ে চারটি গরু নিয়ে গেছে এবং আমার ও বাবার ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র লুটপাট করে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আমরা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সহকারে বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের বড় ভাই জুম্মন বলেন, ছোট ভাইয়ের লাশ বাড়িতে আনা হলে উত্তেজিত জনতা আসামির বাড়িতে হামলা করে। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কেউ জড়িত নয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোঃ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, ' হত্যায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার পর লূট হওয়া দুইটা গরু উদ্ধার করে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ওসি জানান, আসামিপক্ষের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



