চিরচেনা রূপে কক্সবাজার, ঈদ উৎসবে মাতোয়ারা ভ্রমনপিপাসুরা
কক্সবাজার প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম
লোকে লোকারণ্য বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। যেখানে সাগরতীর জুড়ে পা ফেলারও জায়গা নেই। ঈদের ছুটিতে সাগরপাড়ে ভিড় করেছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে নোনাজলে কিংবা বালিয়াড়িতে কাটছে আনন্দঘন মুহূর্ত।
এ যেন টানা ছুটির ঈদের দ্বিতীয়দিনে চিরচেনা রূপে সৈকত শহর কক্সবাজার; এতে লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত সমুদ্র সৈকতসহ জেলার সবগুলো বিনোদন কেন্দ্র।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টের ৭০ শতাংশের বেশী কক্ষ বুকিং রয়েছে। টানা ছুটির সামনের দিনগুলোতে পর্যটক সমাগম আরও বাড়বে। কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক সমাগমে খুশি তারা। এদিকে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও হয়রানি রোধে সার্বিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন, ট্যুরিস্ট পুলিশের সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা মিলে, ঈদের দিন বৃষ্টি হলেও দ্বিতীয় দিন রোববার (২২ মার্চ) কক্সবাজারে নেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি, নেই বৈরী আবহাওয়া। সাগরের নোনাজল যেন আহ্বান জানাচ্ছে পর্যটকদের। চেনা রূপে ফিরেছে সাগরপাড়। কানায় কানায় পূর্ণ পুরো সমুদ্রসৈকত। মাদ্রাসা পয়েন্ট থেকে কলাতলী পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার জুড়ে শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ মেতেছেন নোনাজলের ঢেউয়ে, কেউবা বালিয়াড়িতে আনন্দে মগ্ন।
সকাল গড়াতেই পর্যটকের ভিড় বাড়তে থাকে সৈকত জুড়ে। আর দুপুরে পুরো সৈকত এলাকা পরিণত হয় জনারণ্যে। এদের কেউ এসেছেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউ পরিবার নিয়ে; আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের সাথে। তারা সৈকতের বিস্তৃত বালিয়াড়িতে ঘুরাঘুরির পাশাপাশি বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দে মেতেছেন। কেউ কেউ কিটকটে বসে পরশ অনুভব করছেন সাগরের হিমেল হাওয়ার। অনেকে ব্যস্ত নিজেদের ভ্রমনের স্মৃতিকে ক্যামেরাবন্দি আর সেল্পি তুলতে। তবে অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ অবগাহনে।
আর ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলছেন, ঈদে উদযাপনের পাশাপাশি প্রকৃতির নির্মল ছোঁয়া পেতে কক্সবাজার ছুটে আসা। নির্বিঘ্নে ঘুরতে পেরে খুশি তারা।
নারায়রণগঞ্জ থেকে পর্যটক রাবেয়া রহমান বলেন, মনে হয়েছিল ঈদেরর ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটক কম হবে। কিন্তু এসে দেখি সাগরতীরে পা ফেলার জায়গা নেই। এতো মানুষ, এতো হৈ হুল্লোড় আগে দেখিনি। খুব আনন্দ লাগছে এতো মানুষের আনন্দ দেখে।
সাত বন্ধু মিলে ঈদ আনন্দ করতে সিলেট থেকে ছুটে এসেছেন কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে। তাদের মধ্যে ৬ জন সেলফি, নোনাজলে সমুদ্রস্নান আর দুষ্টৃমিতে মেতে রয়েছেন। কিন্তু তাদের একজন রাহাতুল ইসলাম, যে ব্যস্ত ড্রোন ওড়ানো নিয়ে। কথা হয় তার সঙ্গে, রাহাতুল ইসলাম বলেন, ড্রোন ওড়িয়ে দেখছি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত কত মানুষ হবে। কিন্তু ড্রোন যতই উপরে তুলছি দেখছি ততই মানুষ। মনে হয়, ২ লাখের কাছাকাছি মানুষ হবে। ড্রোনের ছবি ও ভিডিও নিতে খুব ভালো লাগছে।
পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে ঢাকার মিরপুর থেকে এসেছেন ব্যাংকার আব্দুস সোবহান। তিনি বলেন, ঈদের দিন কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বৃষ্টির কারণে তেমন ভালো লাগেনি। আজকে দেখি চৎমকার আবহাওয়া। খুব বেশি আনন্দ করছি।
এদিকে পর্যটকের চাপ বাড়ায় ব্যস্ততা বেড়েছে লাইফগার্ড কর্মীদের। ওয়াচ টাওয়ার থেকে নজরদারির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক টহল ও মাইকিং চালানো হচ্ছে। তবে জনবল স্বল্পতায় দায়িত্ব পালনে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অন্যদিকে, বালিয়াড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র-সবখানেই নিরাপত্তা জোরদার করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার প্রজেক্ট কর্মকর্তা মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, দেড় মাসের পর্যটকের খরা কাটিয়ে ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখরিত। লাখের বেশি পর্যটকের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ লাখের বেশি পর্যটকের নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে মাত্র ২৭ জন কর্মী। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, যাতে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেয়া যায়।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহেদ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে যেহেতু বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন হয়েছে, সেক্ষেত্রে বালিয়াড়ি থেকে হোটেল মোটেল জোন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো সার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।
তিনি বলেন, কক্সবাজার সৈকতের পাশাপাশি মেরিন জ্রাইভ, হিমছড়ি, দরিয়ানগর, ইনানী ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, রামুর বৌদ্ধ বিহার, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক ও শহরের বার্মিজ মার্কেট সহ জেলার সবক’টি বিনোদন কেন্দ্র আগত পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে।



