ভোলার লালমোহন উপজেলার মেঘনা নদীতে ঘাটে অবস্থানরত কর্নফুলী-১২ নামে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সাথে ধাক্কা লেগে মৎস্য বিভাগের স্পিডবোট ডুবে নিখোঁজের দুই দিনের মাথায় পুলিশ কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলামের (৪০) মরদেহ পাওয়া গেছে। তবে তার সঙ্গে থাকা সরকারি শটগান ও ১০ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় পার্শ্ববর্তী দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ফখরুল ইসলাম লালমোহনের মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে গত ৬ মাস ও বাংলাদেশ পুলিশে প্রায় ২০ বছর ধরে কর্মরত ধরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানায়। এর আগে বুধবার (১৮ মার্চ) দিবাগত রাত ৮টার দিকে উপজেলার মঙ্গলসিকদার লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
লালমোহন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে লঞ্চের ধাক্কায় স্পিডবোট ডুবিতে নিখোঁজ থাকা পুলিশ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামের বলে চিহ্নিত করেছি এবং মরদেহ উদ্ধার করেছি। তবে তার সঙ্গে থাকা শটগান ও গুলি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে, ভোলার মেঘনা তেতুলিয়া নদীতে মাছ ধরার ওপর দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মঙ্গলসিকদার ঘাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মৎস্য বিভাগের সাথে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় হঠাৎ অভিযানকারী দলের স্পিডবোট বিকল হয়ে নদীতে ভাসতে থাকে। এ সময় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা এমভি কর্ণফুলী-১২ লঞ্চটি মঙ্গলসিকদার ঘাটে যাত্রী নামাচ্ছিল।
একপর্যায়ে স্পিডবোটটি স্রোতের ঢেউয়ের সাথে ভাসতে ভাসতে লঞ্চের পেছনে থাকা প্রফেলারের কাছে চলে এসে বোটটি লঞ্চের তলায় ঢুকে যাওয়ার মুহূর্তে বোটে থাকা পুলিশ সদস্যরা ও মৎস্য বিভাগের লোকজন বোটের একপাশে এসে বোটটিকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে লঞ্চের প্রফেলারের পানির ঘূর্ণিতে স্পিডবোট উল্টে ডুবে যায়।
পরবর্তীতে বোটে থাকা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের অন্যান্য লোকজন সাঁতরে তীরে উঠলেও নিখোঁজ ছিলেন মঙ্গলসিকদার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত কনস্টেবল মো. ফখরুল ইসলাম। পরবর্তীতে মেঘনা নদীতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের কয়েক দফা অভিযানেও সন্ধান মেলেনি তার।



