অবৈধ পথে ভারতে গিয়ে কারাবাস, লাশ হয়ে ফিরল খাইরুজ্জামাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের পশ্চিম কালুডাঙা গ্রামের বাসিন্দা খাইরুজ্জামাল (৪২) অবশেষে দেশে ফিরলেন, তবে জীবিত নয়, নিথর দেহ হয়ে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে জীবিকার সন্ধানে অবৈধ পথে ভারতে পাড়ি জমান খাইরুজ্জামাল। সেখানে অবস্থানকালে ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন তিনি। কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে ভারতের জলপাইগুড়ি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
তার মৃত্যুর পর লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয় দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রায় ৩৮ দিন দুই দেশের প্রশাসনিক যোগাযোগ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকালে লালমনিরহাটের চেংড়াবান্দা (বুড়িমারী) ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এসময় কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), দুই দেশের পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
খাইরুজ্জামালের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ, যিনি শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করে আসছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খাইরুজ্জামাল এক কন্যা, এক পুত্র ও স্ত্রী রেখে গেছেন। আজ রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মৃত খাইরুজ্জামালের ছোট ভাই খয়বর আলী বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি জানতে পারি ভারতের জলপাইগুড়ি কারাগারে আমার ভাই মারা গেছে। ভারত থেকে কিভাবে ভাইয়ের লাশ নিয়ে আসবো এ ব্যাপারে নিরুপায় ছিলাম পরে সাংবাদিক বশির ভাইয়ের সহযোগিতা নিয়ে ভাইকে দেশে আনতে পেরেছি। আমি ভাইয়ের লাশ পেয়ে খুঁশি।
রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজার বশির আহমেদ বলেন, লাশের মায়ের যে আর্তনাদ ছিল তার ছেলেকে একনজর দেখতে চাওয়া। তার এমন আকুতিতে আমি চরমভাবে ব্যথিত হয়েছিল। যার প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে টানা ৩৬ দিনের প্রচেষ্টায় খাইরুজ্জামালের লাশ দেশে এনে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি এটাই আমার ভালো লাগার।
উলিপুর থানার ওসি সাঈদ ইবনে সিদ্দিক বলেন, আমরা মরদেহ ফেরত আনার ব্যাপারে মৃতের পরিবার এবং রেডিও চিলমারীর স্টেশন ম্যানেজারকে সার্বিক পরামর্শ দিয়েছি। অবশেষে লাশ ফেরত আনা হয়েছে।



