নীলসাগরের লাইনচ্যুত সব বগি সরিয়ে চলছে লাইন মেরামত
বগুড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাইনচ্যুত ৯টি বগির মধ্যে এখন পর্যন্ত সাতটি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুটি বগি সরিয়ে লাইনের পাশে রাখা হয়েছে। এখন রেললাইন মেরামত করে দ্রুত ট্রেন চালুর চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা বেগম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
খাদিজা বেগম জানান, উদ্ধারকাজের পাশাপাশি রেললাইন মেরামতের কাজও একসঙ্গে চলায় কিছুটা সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাইন ক্লিয়ার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, বাকি বগি উদ্ধার সম্পন্ন হলেই দ্রুত রেললাইন সচল করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হবে।
গতকাল বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে সান্তাহার রেল জংশনের নিকটবর্তী বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে সকাল ছেড়ে আসা ট্রেনটির ইঞ্জিন পার হলেও ১৬টি বগির মধ্যে ৯ট লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনায় প্রায় শতাধিক যাত্রী আহত হন। তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জনকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের স্থানীয় হাসপাতাল ও বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রেল কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে অংশ নেয়। পরে ঈশ্বরদী ও সৈয়দপুর থেকে দুটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান জোরদার করে। বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা ও খুলনার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের ব্রডগেজ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঈদযাত্রায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুর্ঘটনাস্থলের আগে ট্রেন থেকে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীরা পায়ে হেঁটে দুর্ঘটনাস্থল পার হয়ে অন্য ট্রেনে উঠে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাগবাড়ী এলাকায় গত ১৫ থেকে ২০ দিন ধরে রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। এ কারণে ট্রেন চলাচল সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছিল।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী আহম্মদ হোসেন মাসুমের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।



