মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মারা গেলেন নরসিংদীর শফিকুল ইসলাম
নরসিংদী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পাঁচ বাংলাদেশি কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন নরসিংদীর রায়পুরার শফিকুল ইসলাম।
শনিবার (১৪ মার্চ) শফিকুলের মেয়ে রিয়া মণি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
শফিকুল ইসলাম (৪২) রায়পুরা উপজেলার জাহাঙ্গীর নগর গ্রামের বাসিন্দা মৃত শরাফত আলীর ছেলে।
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ১৫ বছর যাবৎ মালদ্বীপে একটি রিসোর্টে কর্মী হিসেবে চাকরিরত ছিলেন। পরিবারে তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে ১৫ বছর আগে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তিনি।
এরপর সবশেষ গত ৫ মাস আগে দেশে ছুটি কাটিয়ে আবারও মালদ্বীপে ফিরেন। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দুরে নিহতের ছেলে রিফাত কাজ করেন। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত রিফাত সেখানে গিয়ে বাবার মরদেহ দেখতে পেয়ে বাড়িতে মৃত্যুর কথা জানান।
নিহতের মেয়ে রিয়া মনি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আমার বাবা মারা গেছে। ভোরে সেহরি রান্না করার সময় আমার ভাই রিফাত আমাকে ফোন দিয়ে কান্না করতে করতে বলে আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে, আমরা এতিম হয়ে গেছি, বাবা আর বেঁচে নেই, আগুনে পুড়ে মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দুয়েকদিনের মধ্যেই বাড়িতে মরদেহ নিয়ে আসা হবে।
নিহতের ছেলে রিফাত বলেন, আমার বাবা রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ে নিহত হয়েছে। রান্না ঘরটিতে গ্যাস সিলিন্ডারসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল ছিল, সেগুলো বিস্ফোরিত হয়েছে। বের হওয়ার জন্য শুধু একটি দরজা ছিল, ধোঁয়ার কারণে কেউ বের হতে পারেননি। এরপর সবাইকে মৃত অবস্থায় বের করে আনা হয়। পরে বাড়িতে ফোনে বাবার মৃত্যুর খবর জানাই। বাড়িতে আমার স্ত্রী ও বোন ছাড়া আর কেউ নাই। মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে দূতাবাসে কথা হয়েছে।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কেউ যোগাযোগ করেনি।
এর আগে গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ভোরে মালদ্বীপের দিগুড়া আইল্যান্ডে একটি নির্মাণাধীন প্রকল্পের গেস্টহাউজে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর গেস্টহাউজের ভেতর থেকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় সাত বাংলাদেশি শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।



