Logo
Logo
×

সারাদেশ

ধনী-গরিব সবার হাসিতেই উৎসবের সার্থকতা: ডিসি জাহিদ

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৬ পিএম

ধনী-গরিব সবার হাসিতেই উৎসবের সার্থকতা: ডিসি জাহিদ

জুমার নামাজ শেষে চট্টগ্রাম নগরের জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের প্রাঙ্গণে মানুষের ভিড়। নামাজ শেষে আজ শুক্রবার ( ১৩ মার্চ) কেউ ফিরছেন বাসায়, কেউ আবার দাঁড়িয়ে আছেন মসজিদের আঙিনায়। ঠিক সেই সময়ই শুরু হলো এক ভিন্ন আয়োজন—অসহায়, দরিদ্র ও ভাসমান মানুষের হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দিচ্ছেন জেলা প্রশাসক নিজেই।

পবিত্র ঈদুল ফিতর যেন সবার জন্য আনন্দ বয়ে আনে—এই লক্ষ্য নিয়েই শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দুস্থ ও ভাসমান মানুষের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার উদ্যোগে জুমার নামাজ শেষে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এই সহায়তা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন প্রায় ২৫০ জন অসহায়, ভাসমান মানুষ ও ভিক্ষুকের হাতে খাদ্য সহায়তার প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

মসজিদের খাদেম আবুল কালাম আজাদ প্রায় তিরিশ বছর ধরে এখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এত দীর্ঘ সময়েও তিনি এমন দৃশ্য খুব কমই দেখেছেন। তিনি বলেন,

“ডিসি স্যার শুধু উপস্থিতই থাকেননি, নিজের হাতে প্রতিটি ভিক্ষুকের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। একজন জেলা প্রশাসক নিজে এসে সমাজের অবহেলিত মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে সহায়তা দিচ্ছেন—এটা সত্যিই বিরল।”

মসজিদ প্রাঙ্গণে কাজ করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি চট্টগ্রাম সিটি কলেজে মাস্টার্সে পড়ছেন। পড়াশোনার ফাঁকে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে এখানে কাজ করেন। তিনিও অবাক হয়ে দেখেছেন পুরো দৃশ্য। তিনি বলেন,

“এমন ভালো মনের ডিসি স্যার আমি আগে দেখিনি। প্রায় দুই শতাধিক ভাসমান মানুষ ও ভিক্ষুকের হাতে তিনি নিজে খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েছেন।”

মসজিদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওসমান গনিও জেলা প্রশাসকের প্রশংসা করে বলেন,

“ডিসি স্যার আমাকেও একটি খাদ্য প্যাকেট দিয়েছেন। পুরো সময় আমি দেখেছি—তিনি হাসিমুখে মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন।”

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সমাজে বসবাস করলে একা ভালো থাকা যায় না। সমাজের সবাইকে নিয়ে ভালো থাকতে হবে। তিনি বলেন,

“যারা ভালো অবস্থানে আছেন, তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ—আসুন আমরা সবাই মিলে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই। সেও এই সমাজেরই একজন সদস্য। আমাদের উৎসব ও আনন্দে তারও অংশগ্রহণ থাকা উচিত।”

তিনি আরও বলেন, উৎসব একা করা যায় না; উৎসব সবাইকে নিয়ে করতে হয়।

“কোনো অসহায় মানুষ যদি উৎসবের দিনে খেতে না পারে, তার ঘরে যদি খাবার না থাকে—তাহলে সেটা খুবই কষ্টের বিষয়। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করেছি তাদের পাশে দাঁড়াতে।”

জেলা প্রশাসক জানান, সরকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য স্থায়ী সহায়তার ব্যবস্থাও নিচ্ছে। তিনি বলেন,

“ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা চাই নতুন বাংলাদেশে এমন একটি সমাজ গড়ে উঠুক, যেখানে কেউ অসহায় হয়ে পড়ে থাকবে না।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, খাদ্য সহায়তা প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ১ কেজি দেশি মসুর ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার ভোজ্য তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

খাদ্য সহায়তা পেয়ে অনেকের মুখেই ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি। তারা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছাইফুল্লাহ মজুমদারসহ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সমাজের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন