Logo
Logo
×

সারাদেশ

নরসিংদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে বালতি কৌশল, অনিয়মের অভিযোগ

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

নরসিংদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে বালতি কৌশল, অনিয়মের অভিযোগ

নরসিংদী পৌরসভায় ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপকারভোগীদের দাবি, সরকার নির্ধারিত ১০ কেজি চালের পরিবর্তে অভিনব কৌশলে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ ধরনের বালতি ব্যবহার করে চাল কম দেওয়ার এই কৌশল নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার সরেজমিনে নরসিংদী পৌরসভায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ৮টার আগেই শত শত নারী-পুরুষ চাল নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। চাল বিতরণস্থলে সারি সারি করে চালের বস্তা রাখা হয়েছে এবং কিছু বস্তা খুলে চাল নিচে ঢেলে রাখা হয়েছে। পাশেই রাখা রয়েছে পাঁচটি টিনের বালতি। এর মধ্যে একটি নীল রঙের এবং বাকি চারটি সাদা রঙের।

সকাল ৮টা থেকে পৌর কর্তৃপক্ষ চাল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে। লাইনে দাঁড়ানো উপকারভোগীরা ভিজিএফ কার্ড জমা দিয়ে ১০ কেজি চাল প্রাপ্তির স্বাক্ষর তালিকায় টিপসই দিয়ে চাল নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ১০ কেজির পরিবর্তে পাচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে সাড়ে ৯ কেজি। অভিযোগ উঠেছে, মাপার যন্ত্র ব্যবহার না করে, বালতি ব্যবহার করে কৌশলে কম দেয়া হচ্ছে চাল।

চাল বিতরণে নিয়োজিতদের মধ্যে মো. মতিউল্লাহ নামে একজন বলেন, “আমরা বস্তাপ্রতি চাল কম পাই। তাই সাড়ে ৯ কেজি করে চাল দিচ্ছি। এর বেশি দেয়ার সুযোগ নেই।

তবে প্রতিবেদক পৌর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কয়েকটি বস্তা র‍্যান্ডমভাবে মেপে দেখেন, প্রতিটি বস্তায় সর্বোচ্চ দুই থেকে তিনশ গ্রাম চাল কম রয়েছে। অথচ উপকারভোগীরা ১০ কেজি চালের বিপরীতে এক থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত কম পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সামসুন্নাহার বলেন, ১০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। কিন্তু বাড়িতে এনে মেপে দেখি প্রায় এক কেজি কম। তারা সব সময় গরিবের হক মাইরা খায়। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের ন্যায্য অধিকার না পেলে কার কাছে যাব?

পৌরসভায় চাল নিতে আসা ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হাজেরা বেগম বলেন, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে কত কষ্ট করে চাল নিয়েছি। তবে চাল নিয়ে বাড়িতে গিয়ে সন্দেহ হলে একটি দোকানে গিয়ে মেপে দেখি মাত্র ৮ কেজি ৮শ গ্রাম চাল রয়েছে। অথচ আমাকে ১০ কেজি চাল দেয়ার কথা। এ কথা আর কাকে বলবো, যা পেয়েছি তা নিয়েই থাকি, কি আর করার। 

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, নরসিংদী পৌরসভার ৪ হাজার ৬২৫ জন সুবিধাভোগীর জন্য ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ রয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) থেকে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজারের উপরে উপকারভোগী চাল গ্রহণ করেছেন। তবে বিতরণের সময় চাল কম দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

এলাকার সচেতন মহলের দাবি, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারের দেয়া ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জন প্রতি ১০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দেয়া হচ্ছে সাড়ে ৮ থেকে ৯ কেজি করে। যদি প্রতি উপকারভোগীর কাছ থেকে এক কেজি করে চাল কম দেয়া হয়, তবে মোট ৪ হাজার ৬২৫ কেজি চাল অবশিষ্ট থাকে, যা প্রায় ১৫৪ বস্তার সমান। এই চাল পরে কৌশলে আত্মসাৎ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন বলেন, আমাদের গুদাম থেকে যে চালের বস্তাগুলো নির্ধারিত গন্তব্যে যায়, সেগুলোতে চাল কম থাকার সুযোগ নেই। তবে প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম এদিক-সেদিক হতে পারে। চাল কম দেয়ার বিষয়টি বিতরণকারী কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।

এ বিষয়ে নরসিংদী পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (গোপনীয় শাখা) এফ এম নাঈম হাসান শুভ বলেন, প্রতিটি সুবিধাভোগীর জন্য বরাদ্দকৃত ১০ কেজি চাল সবসময় আসে না। বিভিন্ন পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে একই অবস্থা পাওয়া গেছে। তবে ৯ কেজি ৫০০ গ্রামের নিচে চাল দেয়ার সুযোগ নেই।

নরসিংদী জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। সংশ্লিষ্ট পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন