Logo
Logo
×

সারাদেশ

বদলি আদেশ অমান্য ডা. রোজি সরকারের, নীরব স্বাস্থ্য বিভাগ

Icon

নরসিংদী প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

বদলি আদেশ অমান্য ডা. রোজি সরকারের, নীরব স্বাস্থ্য বিভাগ

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক ডা. কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত ২৫ ফেব্রুয়ারির ২০২৬ তারিখে এক প্রজ্ঞাপনে ডা. রোজি সরকারকে নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে সিলেটের কানাইঘাটের রাধাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বদলি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল তিন কর্মদিবসের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে, অন্যথায় চতুর্থ দিন থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এছাড়া নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করে আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না। যোগদান না করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কিন্তু প্রজ্ঞাপন জারির আট দিন পেরিয়ে গেলেও ডা. রোজি সরকার বদলিকৃত কর্মস্থল সিলেটের কানাইঘাটে যোগদান করেননি বলে নিশ্চিত করেছেন কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবাবর পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুবল চন্দ্র বর্মন। 

বরং তিনি নরসিংদীতেই অবস্থান ধরে রাখতে বিভিন্ন মহলে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে স্পষ্টতই সরকারি আদেশ অমান্য করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে কোন অজ্ঞাত কারণে তার বিরুদ্ধে এখনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

ডা. রোজি সরকারের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীদের দাবি, নরসিংদী সদর হাসপাতালে প্রাপ্য চিকিৎসাসেবা না দিয়ে তিনি অনেক রোগীকে আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দিতেন। একাধিক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, হাসপাতালের আশপাশে থাকা বেশ কয়েকটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সঙ্গে তার আর্থিক সংশ্লিষ্টতা বা পার্টনারশিপ রয়েছে। সেই স্বার্থেই সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে রোগীদের প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হতো বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

নরসিংদী সদর হাসপাতালে টানা প্রায় ১৭ বছর কর্মরত ছিলেন ডা. রোজি সরকার। বদলি আদেশ জারির পর সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার ফলে জবাবদিহিতার ঘাটতি তৈরি হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্র জানায়, তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিব)-এর একজন নির্বাচিত সদস্য। এ পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়েই দীর্ঘ সময় একই হাসপাতালে বহাল ছিলেন এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, তিনি অনিয়মিত অফিস করতেন, দেরিতে আসতেন এবং অনেক সময় অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। জরুরি সেবা নিতে আসা রোগীরাও নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে আমরা অনেক সময় অপমানিত হয়েছি। চিকিৎসার চেয়ে আচরণগত সমস্যাই বেশি কষ্ট দিত।

স্বাস্থ্য বিভাগে নীরবতা, প্রশ্ন জনমনে

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ফরিদা গুলমানারা কবির জানান, বদলির আদেশ জারির পর ডা. রেজী সরকার সদর হাসপাতালে কর্মরত নেই। এছাড়াও তিনি নরসিংদী সদর হাসপাতালের সফ্টওয়ার থেকে মুভআউট হয়েছেন বিষয়টি সিভিল সার্জন অফিসে অবহিত করা হয়েছে।

নরসিংদী সিভিল সার্জন ডা. সৈয়দ মো. আমিরুল হক জানান, বদলির আদেশ জারির পর ডা. রোজী সরকার নরসিংদী সদর হাসপাতাল থেকে মুভআউট হয়েছে। কিন্তু রিলিজের কাগজ নিতে আসেননি। তবে সফ্টওয়ার থেকে মুভআউট হলেই তিনি বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করতে পারবেন। যতটুকু জানতে পেরেছি তিনি নরসিংদীতে থাকার চেষ্টা করছেন যা স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা অবগত আছেন।

সরকারি আদেশ অমান্য, যোগদান না করা, এবং গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নীরবতা আরও সন্দেহ ঘনীভূত করছে। স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান করলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়া কার্যকর না হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

এখন দেখার বিষয় সরকারি বদলি আদেশ অমান্য করার পরও ডা. রোজি সরকারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নরসিংদীতেই থেকে যাবেন অজ্ঞাত কোনো শক্তির প্রভাবে। সরকারি আদেশ অমান্য করায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি কি ধামাচাপা পড়ে যাবে?

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন