কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ পিএম
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় আফরোজা বেগম নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেছে রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কর্মবিরতি পালন করছে চিকিৎসক ও নার্সরা। এমন পরিস্থিতিতে টানটান উত্তেজনা বিরোজ করছে।
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে কুড়িগ্রাম শহরতলির হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী পেশার জনিত কারণে হাসপাতালে আসলে এ সময় নার্সরা ভর্তিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে গড়িমসি করে সময় ক্ষেপণ করে। এতে রোগীর পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। এ সময় রোগীর স্বজন এবং নার্সদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিতর্ক চলাকালে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
রোগীর স্বজনদের মধ্যে আপেয়ারা বেগম, দরদী ও লিলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসলে নার্সরা এ সময় মোবাইলে লুডু খেলতে ব্যস্ত ছিল। রোগীর অবস্থা খারাপের কারণে আমরা তাদেরকে তাড়া দেই। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কাগজপত্রের জটিলতা দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। মাত্র রোগীকে ভর্তি হতেই এক ঘণ্টা সময় নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক পর্যায়ে রোগী আফরোজা বেগম মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। তারা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মৃত ব্যক্তির শরীরে স্যালাইন দেওয়া শুরু করে। এ সময় প্রতিবাদ করলে ডাক্তার শুভ’র নেতৃত্বে ৭-৮ জন রোগীর ছোট ভাইকে অন্য একটি কক্ষে দরজা লাগিয়ে বেদম মারপিট করে।
এ সময় হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার চিকিৎসক শুভ তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীকে ভর্তি না করে চিকিৎসা দেওয়ার নিময় নেই। রোগীর স্বজনরা ভর্তি ছাড়াই চিকিৎসা করাতে চাপ প্রয়োগ করে। তাছাড়া আমি কিংবা আমার স্টাফরা তাদের কাউকে মারধর করি নাই। সিসিটিভি ফুটেজ দেখলে আমরা প্রমাণ পাবেন।
রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিস্থিতি বেগতিক দেখি কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন, রোগী এবং নার্স উভয়ই অপেশাদারিত্ব আচরণ করেছে। আমি চেষ্টা করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে।



