রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ ডিআইজির চিঠি
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার দেখানো নিয়ে ‘বিশেষ নির্দেশনা’
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৯ এএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ শাহজাহান, ডিআইজি, রাজশাহী রেঞ্জ পুলিশ। মঙ্গলবার জারি করা এ নির্দেশনা চিঠি পাঠানো হয়েছে রেঞ্জের আওতাধীন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এতে উল্লেখ করা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বা স্থগিত ঘোষিত ‘ফ্যাসিস্ট সংগঠন’ বা সংগঠনসমূহের যেসব নেতা-কর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী করা, সংগঠিত করা বা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তাদের জামিনের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে হবে, যা পুলিশি পরিভাষায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ হিসেবে পরিচিত।
তবে যাদের এ ধরনের সক্ষমতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত এমন ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে সরাসরি আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নাম উল্লেখ করা হয়নি, যদিও ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠন’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে এর আগে গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছিল এবং বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি মো. শাহজাহান বলেন, চিঠিটি সাংবাদিকদের কাছে চলে যাওয়া তিনি ‘চরম দুর্বলতা’ হিসেবে দেখছেন এবং এটি একান্তই অভ্যন্তরীণ বিষয়। তিনি দাবি করেন, নির্দেশনাটি আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে নয়; বরং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এমন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যদের জন্য।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঠেকাতে আগাম সতর্কতামূলক বার্তা হিসেবেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি রুটিন কার্যক্রম নয়। সরকারের স্বীকৃত কোনো ব্যক্তি, সংগঠন বা রাজনৈতিক দলকে টার্গেট করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
পুলিশ সদর দপ্তরের কোনো নির্দেশনা ছিল কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি সদর দপ্তরের নয়, বরং রেঞ্জ পর্যায়ের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। ভাষাগত কারণে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের তৎপরতা বেড়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। সে কারণেই প্রয়োজন হলে তাদের আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি হিসেবে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। সূত্র- বিবিসি বাংলা



