রূপগঞ্জে ভুল চিকিৎসার বলি ২০ বছরের সুমাইয়া
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর রোগীর স্বজনেরা হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভুলতা গাউছিয়া এলাকায় ডিকেএমসি নামক একটি প্রাইভেট হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমাইয়া (২০) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পাড়াগাঁও মধ্যপাড়া এলাকার কাউসার আহমেদ জুয়েলের মেয়ে।
রোগীর স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা গেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুমাইয়া আহমেদ বিন্দু প্রসব ব্যথা নিয়ে উপজেলার ডি কে এমসি নামক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি হন। অস্ত্রোপচার (সিজার) শেষে রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক প্রসূতিকে আইসিইউতে রেফার করে। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোগীর স্বজন ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ভাঙচুর চালান। এ নিয়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের বাবা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে মোটা অঙ্কের নগদ টাকার বিনিময়ে সমঝোতা হয় এবং বিষয়টি আপোষ মীমাংসা হয়।
নিহত সুমাইয়ার চাচা জাহিদ আমির বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে আমার ভাতিজির মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু ভাতিজিকে আর ফিরেই পাব না। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি সমঝোতার ভিত্তিতে মীমাংসা শেষ ভাতিজির মরদেহ নিয়ে এসেছি।
ডিকেএমসি হাসপাতালের পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, অপারেশনের পর রোগীকে বেডে দেওয়া হয়। সেখানে শোয়া অবস্থায় রোগীকে তার স্বজনেরা পানি ও রুটি খাওয়ান। শুয়ে থাকা অবস্থায় রুটি খাওয়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাবারটা শ্বাসনালিতে আটকে যায়। আমরা রোগীকে আইসিইউতে পাঠিয়ে দিই। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে প্রসূতির মৃত্যু হয়। এখানে চিকিৎসার কোনো ত্রুটি ছিল না।
ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। রোগীর স্বজনদের দাবি, ভুল চিকিৎসার রোগী মারা গেছে। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শুয়ে থাকা অবস্থায় রোগীকে খাবার খাওয়ানোয় শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকে এমনটি ঘটেছে। তবে এক পর্যায়ে রোগীর স্বজন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মীমাংসায় গেলে আমরা চলে আসি।



